হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রয়াত শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কুরআন খতম, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যোহরের নামাজের পর বানিয়াচং জামিয়া ইসলামিয়া দারুসসালাম দোয়াখানী মাদ্রাসায় এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০১১ ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পবিত্র কুরআন খতম শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিরণি বিতরণ করা হয়।
এ আয়োজনের পেছনে ছিল প্রয়াত শাহ আলমের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক, পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিক দায়বদ্ধতা। তাঁর বাল্যবন্ধু ও দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছরের পথচলার সঙ্গীদের সম্মিলিত উদ্যোগ, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আর্থিক সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলটি সম্পন্ন হয়। বন্ধুর মৃত্যুর পরও তাঁর স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে আত্মার মাগফিরাত কামনায় এমন উদ্যোগ বন্ধুত্বের গভীরতা ও মানবিক মূল্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
আয়োজনে সম্পৃক্ত শিক্ষক মো. আব্দাল মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; তাদের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তুলতে হবে। ভালো কাজে অংশগ্রহণ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয়জনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়েও শিক্ষার্থীরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অর্জন করে। শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে দেখা একজন শিক্ষক হিসেবে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তির বিষয়।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তাঁর কর্ম, সম্পর্ক ও স্মৃতি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। প্রিয়জনের বিদায়ে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে দোয়া, ভালোবাসা ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিকে সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখা যায়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া দারুসসালাম দোয়াখানী মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আহমদ আলী, সহকারি পরিচালক মাও. নুরুদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক মাও. আবিদুর রহমান, মাও. আতাউর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাও. নুরুল ইসলাম প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী, এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০১১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদ্রাসার সহকারি পরিচালক মাও. নুরুদ্দিন। মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে মরহুম শাহ আলমের জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা, কবরের আজাব থেকে মুক্তি এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দানের প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এ অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করা হয়।
বন্ধুত্বের টানে প্রিয়জনের স্মৃতিতে কুরআন খতম, দোয়া ও মানবিক আয়োজন কেবল শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভালোবাসা, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও সামাজিক মূল্যবোধের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।