শীতকাল নানা রঙের শাক-সবজি ও সুস্বাদু পিঠাপুলির উৎসবের সময়। তবে এ মৌসুমে সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শীত মানে শুধু মজার খাবার নয়, বরং এই সময়ে শরীর ও ত্বকের জন্য এই সময়ে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। অনেকেই জানানেন শীতের মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা খুবই জরুরি। শীতে নিজেকে কীভাবে সুস্থ রাখবেন সে বিষয়ে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন রাজধানী ঢাকার মহাখালীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারের নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েট কনসালটেন্ট ইসরাত জাহান ডরিন।
শীতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি কেন: পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান বলেন, শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, জ্বর, ঠাণ্ডাজনিত ঘা ও গলা ব্যথা দেখা দিতে পারে। এসময় সঠিক খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলে শরীর সুস্থ থাকবে। এমনকি শীতে আমাদের ত্বকের যত্নের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হয়। কারণ শীতের জন্য ত্বজ মলিন হয়ে যায়। অনেকেই জানেন না খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখলে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় না।
শীতের সচেতনতা: গরমের পর শীতের আগমনের আমাদের শরীর কিছুটা নাজুক থাকে। তাই খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখার পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকতে বছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত। যেগুলো হলো:-
রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন সি: লেবু, কমলা, পেয়ারা ও মালটার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শীতের খাবারে রাখা উচিত। এই ফলগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। এগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে কার্যকর।
শাকসবজি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভূমিকা: শীতের মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি পাওয়া যায়। বুট, ছোলা, পালংশাকের মতো শাক এবং ফুলকপি, শিম, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, ব্রোকলির মতো সবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও আঁশ। এগুলো শরীরের টক্সিন দূর করে ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন: ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চলুন। প্রচুর শাকসবজি ও মৌসুমি ফল দিয়ে সালাদ তৈরি করুন। কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে ভাত বা রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।
ত্বকের যত্নে ফ্যাটি অ্যাসিড: শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। বাদাম ও মাছের মতো ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ খাবার ত্বককে রুক্ষতা থেকে রক্ষা করে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মুরগি বা দুধ শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।
শীতে পানি পানের অভ্যাস: শীতকালে অনেকেই পানি পান কমিয়ে দেন, যা ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি। যারা সাধারণ পানি পান করতে পছন্দ করেন না, তারা হালকা গরম পানি বা স্যুপ, ফলের রস, ডাবের পানি এবং গরম দুধ রাখতে পারেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়।
ভাজাপোড়া এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার: শীতের নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। এর বদলে গ্রিন টি, সালাদ ও অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। এতে হৃদযন্ত্র ভালো থাকবে।
শীতকালীন খাবারে সচেতন হলে সুস্থ থাকা যেমন সহজ হবে, তেমনি ত্বক ও চুলও থাকবে সুরক্ষিত। ঋতুর এই উপহারকে কাজে লাগিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করুন।