সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার দুটি হাওরের দুটি ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য অ্যাক্সেভেটর দিয়ে মাটি কেটে লরির মাধ্প্রকল্প স্থানে ফেলে বাঁধ পুননির্মাণ ও মেরামত কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৫ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মধ্যনগর উপজেলার রুই বিল হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৩৩নম্বর প্রকল্প কাজে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধে ফেলে পুননির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে এই কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।

এসময় অন্যদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মো. নুর আলম, মধ্যনগর থানার এস আই আসাদুল ইসলাম, সাংবাদিক আবদুল মান্নান, উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য আতাউর রহমান বাশার, মোশারফ হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী দেবল রায়, পিআইসির সভাপতি গোপাল চন্দ্র সরকার, সদস্য সচিব মৃনাল সরকার প্রমুখ।

একই দিন বেলা দুইটার দিকে ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৫৮নম্বর প্রকল্প কাজে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তা বাঁধে ফেলে বাঁধ পুননির্মাণ মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে এই কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান, জামায়াতে ইসলামের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মুখলেছুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম আরিফ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সাংবাদিক সেলিম আহমেদ, ঢাকা প্রেসক্লাবের সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক ফারুক আহমেদ রেজভী, পিআইসির সভাপতি আবুল বাশার, সদস্য সচিব মৌলা মিয়া প্রমুখ।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া এই নয়টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। ধর্মপাশা উপজেলায় ৮৬টি পিআইসির বিপরীতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৯কোটি ১৫ লাখ এক হাজার ৮৮টাকা।

অপরদিকে মধ্যনগর উপজেলায় ৩৪টি পিআইসির বিপরীতে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে সাত কোটি ২৮ লাখ তিন হাজার টাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) সংশ্লিষ্টদের দাবি, রবিবার (১৫ডিসেম্বর) পর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলায় ৮৬টি পিআইসির মধ্যে ৭৫টি ও মধ্যনগর উপজেলায় ৩৪টি পিআইসির মধ্যে ২৪টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। যে সব পিআইসি গঠন বাকি তা দ্রুত সময়ের মধ্যে গঠন করা হবে।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন ও মধ্যনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, আগামী ২৮ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের যাবতীয় কাজ শেষ করার জন্য আমাদের সবরকম প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে যথা সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।