লাইফস্টাইল ডেস্ক : লিভার ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় খাদ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুষম খাদ্যতালিকার মাধ্যমে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করলে লিভারের কার্যকারিতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, দৈহিক শক্তি বাড়ে এবং কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।

খাবার পরিকল্পনা যেমন হবে
একবারে পেট ভরে খাওয়ার বদলে দিনে ৫ থেকে ৬ বার অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শক্তিও বজায় থাকবে, আবার বমি বমি ভাবও কমবে।

পুষ্টিকর খাবারে জোর দিতে হবে। কারণ, লিভার ক্যান্সার ও তার চিকিৎসা ক্ষুধা কমায় এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে সমস্যা হয়। হালকা রান্না করা খাবার খেতে হবে, যা লিভার ও পাচনতন্ত্রের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে।

চর্বিহীন প্রোটিন
মাছ : সামুদ্রিক স্যামন, ম্যাকারেল ও সার্ডিন অথবা দেশি মাছ ইলিশ, সুরমা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

পোলট্রি: চামড়াহীন মুরগি বা টার্কি চর্বিহীন প্রোটিনের একটি ভালো উৎস।

উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন: ডাল, শিম, টফু ও কুইনোয়া প্রাণিজ প্রোটিনের ভালো বিকল্প। লিভারের জন্য সেটি হজম করা সহজ।

ডিম: প্রোটিনের ভালো উৎস, কোলেস্টেরলের সমস্যা না থাকলে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর চর্বি
অলিভ অয়েল: এটি মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো: আঁশ ও হেলথি ফ্যাট সরবরাহ করে, যা হজমে সাহায্য করে।

বাদাম ও বীজ: বাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ ও ফ্ল্যাক্সসিড পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং ওমেগা-৩ সরবরাহ করে।

জটিল শর্করা
পূর্ণ অথবা হোল-গ্রেইন শস্য: বাদামি চাল, কুইনোয়া, ওটস ও গমের পণ্য হজমে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে শক্তি প্রদান করে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার
রঙিন সবজি, যেমন- গাজর, বেল পেপার, মিষ্টি আলু ও বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সবজি লিভারকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

বেরিজাতীয় ফলেও আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গ্রিন টিতে আছে ক্যাটেচিন, যা লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়।

পানি ও তরল
পানি: যদি চিকিৎসক এ বিষয়ে নির্দেশনা না দিয়ে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন অন্তত ৮ কাপ পানি পান করতে হবে।

হারবাল চা: ড্যান্ডেলিয়ন ও মিল্ক থিসেল চা লিভারের জন্য উপকারী।

যা এড়িয়ে চলতে হবে
ভাজা খাবার, পরিশোধিত চিনি, শর্করা, লাল মাংস, প্রসেসকৃত খাবার ও অ্যালকোহল বাদ দিতে হবে।

ভিটামিন ও সম্পূরক খাবার
লিভার ক্যান্সারে রোগীদের ভিটামিন-ডি ও বি১২, আয়রন বা জিংকের মতো পুষ্টি উপাদানের জন্য সম্পূরক গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। অনেক রোগীর ফ্লুইড রিটেনশন (অ্যাসাইটিস) সমস্যা হতে পারে। প্রসেসড ও লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং সোডিয়াম গ্রহণ কমানো এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।