জিলাপি ছাড়া যেন সিলেটিদের ইফতার জমে না। ইফতারে খেজুড় আর পাতলা খিচুড়ি ও চানার পর সবচেয়ে জনপ্রিয় খাদ্য তালিকায় জিলাপি। খেতে মিষ্টি আর সুস্বাদু এই খাবারের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের টান নতুন নয়। বিশেষ করে রমজানে ডায়বেটিস সহ নানা রোগিদেরও যেন ইফতার জমে না জিলাপি ছাড়া।

সোমবার (৩ মার্চ) সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টের সামনে জিলাপি সংগ্রহ করার জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

আসরের নামাজের পর জিলাপি নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন রোজাদাররা। বিশেষ করে মধ্য বয়সী থেকে শুরু করে অনেক বয়স্ক লোকদেরও দেখা যায় জিলাপি সংগ্রহ করতে। হোসেন মিয়া নামের একজন বলেন, ইফতারে আমাদের পরিবারের জিলাপি ছাড়া চলে না তাই জিন্দাবাজারে চলে এলাম সুস্বাধু জিলাপি সংগ্রহ করতে।

জিলাপির অনেক উপকারিতা রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যঃ

জন্ডিসে উপকারী: যাদের জন্ডিস আছে তারা প্রতিদিন দুটি করে জিলাপি খেতে পারেন। খালি পেটে খেলে বেশ উপকার পাবেন।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তি: তীব্র মাইগ্রেন থাকলে জিলাপি আপনার জন্য মহৌষধ। সকালে দুধের সঙ্গে জিলাপি খান। যে কোনো ধরনের মাথা ব্যথা থেকে নিরাময় পাবেন। স্ন্যাক হিসেবেও দুধের সঙ্গে জিলাপি খেতে পারেন। তাতেও মাইগ্রেনের উপকার পাবেন।

দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর: সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপে ভোগী। মজার ব্যাপার হলো, ট্রেস বা মানসিক চাপ দূর করে টাটকা জিলাপি। টাটকা জিলাপির স্বাদ আপনার মনকে হালকা করবে। উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমবে।

ওজন বাড়ানো: ওজন নিয়ে যারা চিন্তায় ভোগেন বা যারা ওজন বাড়াতে চান। তারা খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখতে পারেন জিলাপি। জিলাপিতে মিষ্টি খাবার ও ক্যালোরি আছে তাই এটি ওজন বাড়াতে সহায়ক। এক গ্লাস দুধের সঙ্গে দেশি ঘিয়ে ভাজা জিলাপি খেলে আপনার ওজন দ্রুত বাড়বে।

এক টুকরা জিলাপিতে যা আছে: ফ্যাট ২.২ গ্রাম, প্রোটিন ০.২ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৫.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.৫ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩.৬ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ০.৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২০.৭ মাইক্রোগ্রাম।