জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সেবা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আওতা থেকে সরিয়ে নতুন সংবিধিবদ্ধ কমিশনের অধীনে নেয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে আজ এক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার নির্বাচন ভবনের সামনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “SAVE NID – PROTECT VOTER LIST – ENSURE DEMOCRACY”-সহ নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তারা দাবি করেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছেই থাকা উচিত, কারণ এটি দেশের ভোটার তালিকার অংশ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, “ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র একে অপরের পরিপূরক। এটি ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে, পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে।”

তারা আরও বলেন, “এই সেবা স্থানান্তরের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সরকারের প্রতি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনার বর্তমান কাঠামোই সবচেয়ে উপযোগী। এর পরিবর্তন হলে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবে।”

কর্মসূচিতে বক্তারা আরও জানান, তাদের দাবি উপেক্ষিত হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে এনআইডি সেবার দায়িত্ব সরিয়ে নতুন কাঠামো তৈরি করতে চায়, যা আরও কার্যকর ও নিরাপদ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।