সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে বোরো ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি ও কৃষক দল৷ এর আগে সকালে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের পুরাতন বাস স্টেশনের বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাওর অধ্যুষিত একটি বোরো প্রধান জেলা হচ্ছে সুনামগঞ্জ। জেলায় ২৬ লাখ জনসংখ্যার অন্তত ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ- পরোক্ষভাবে বোরো চাষাবাদে নির্ভরশীল। নিম্বাঞ্চল হওয়ায় বছরে একবার মাত্র ধান আবাদের সুযোগ পান সেখানকার কৃষক। বোরো ধানকে কেন্দ্র করে তাদের জীবনের যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। চলতিবছর বোরো মৌসুমে প্রায় ২ লাখ হেক্টর অধিক জমিতে আবাদ হয়েছে। এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। অভ্যন্তরীন চাহিদা মিটিয়ে এ জেলা থেকে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বিপুল পরিমাণ যোগান দিয়ে থাকে সুনামগঞ্জের বোরো ধান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জেলায় বিপুল বোরো আবাদ ও উৎপাদনের বিপরীতে কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহের পরিমাণ একেবারে নগণ্য। অথচ জেলায় মোট কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭শ ৭৭ জন। এবার জেলায় কৃষক পর্যায় থেকে মাত্র ১৪ হাজার ৬শ মেট্রিকটন ধান সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হবে, যা বিগত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। সেই হিসেবে পৌনে ৪ লাখ কার্ডধারী কৃষকের মধ্যে মাত্র সাড়ে ১৪ হাজার কৃষক সরকারি গোদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পাবেন।

সম্মেলনে বলা হয়, বছর বছর এ জেলায় ধানের উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েই চলছে। এই হিসেবে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি কৃষকের মধ্যে একেবারে স্বল্প সংখ্যক সরকারিভাবে ধান সরবরাহের আওতায় আসবেন। যা পিছিয়ে পড়া একটি জেলার জন্য কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। এমন উদ্যোগের ফলে বোরো ধান আবাদে কৃষকদের মাঝে অনিহা সৃষ্টি করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছি। একইভাবে বিগত বছর মিলার মালিকদের কাছ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এবারের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এই অঞ্চলের মিলগুলোর বেশিরভাগ আতপ চাল উৎপাদন করায় চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন।

কৃষক পর্যায় থেকে বোরো ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে চার দফা দাবি তোলে বিএনপি ও কৃষক দল। দাবীগুলো হলো- হাওরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের স্বার্থে চলতি বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে সরকারিভাবে ধান বেশি করে ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া৷ অতিরিক্ত ধান গোদামজাত করতে প্রয়োজনে অন্য জেলার গোদামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। ফ্যাসিবাদ আমলে তৈরি কৃষিকার্ডগুলো পূণরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে হবে, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অকৃষক দলীয় কর্মীদের প্রদান করা হয়েছে। ধান-চাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে হাওরের প্রকৃত প্রান্তিক কৃষদের অর্ন্তভুক্ত করা এবং ধান-চাল সরকারিভাবে সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোন সিন্ডিকেট যেন সুবিধা নিতে না পারে সে দিকে কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকা।

জেলা কৃষক দলের আহবায়ক আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জেলা বিএনপি স্বাক্ষরক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল হক। জেলা বিএনপি নেতা মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, মাসুক আলম, শেরেনূর আলী, নূরুল ইসলাম নূরুল, মোনাজ্জির হোসেন সুজন, সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ, নজরুল ইসলাম, রাকাব উদ্দিন, আ ত ম মিসবাহ, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মুনাজ্জির হোসেন সুজন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম সহ দলীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।