রাজু আহমেদ রমজান, সুনামগঞ্জ:- সাংবাদিক পরিচয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের থার্ড গডফাদার বনে যান সাবজাল হোসেন! সেদিনের সেই বখাটে সাবজাল রাতারাতি লাখ লাখ টাকার মালিক হওয়ার বাস্তবতা কল্পনাকেও যেন হার মানায়। প্রেস লিখা দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল চড়ে হরহামেশা সীমান্তজুড়ে ঘুরঘুর করা সাবজালের বেপরোয়া অপরাধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে সুনামগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২৮ বিজিবি অধীন বালিয়াঘাট বিওপি টহল দল।
অবশেষে অবৈধভাবে ভারতীয় কসমেটিকসহ বিভিন্ন পণ্যের চালান নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশকালে ধরা পড়ে বিজিবির জালে। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট বিওপি এলাকাধীন লাকমা সীমান্তে চোরাচালানসহ আটক হন সাংবাদিক পরিচয়ধারী সাবজাল। রাতেই বিজিবি বাদি হয়ে তাহিরপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৭) দায়ের করে। পরদিন শনিবার সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ধৃত সাবজল তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের দুধেরআউটা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে। মামলায় তার সহযোগী হিসেবে লাকমা গ্রামের মৃত সাগর আলীর ছেলে আব্দুল কাদিরকে আসামী করা হয়। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাহিরপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সীমান্তে চোরাচালান দমনে বিজিবি তৎপর রয়েছে জানিয়ে সুনামগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-২৮ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির বিজিবি বাদি হয়ে মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে মেলা দিন থেকে সীমান্তজুড়ে শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেন সাবজাল। বিজিবি-বিএসএফ-এর চোখ ফাঁকি দিয়ে হরহামেশা গভীররাতে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে চোরাচালান বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন তিনি। স্থানীয়ভাবে অঘোষিত থার্ড গডফাদার তকমা অর্জন করা সাবজালের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দটিও করার সাহস ছিল না এতোদিন। অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখালে থমকে যেত প্রতিবাদ। সীমান্তজুড়ে সাবজালের সহযোগী সাংবাদিক পরিচয়ধারী একাধিক ব্যক্তি রযেছেন বলে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, একযুগ আগে বিজিবির হাতে চোরাচালানের মামলা খেয়েছেন এ সীমান্তের সেকেন্ড হুতা হিসেবে পরিচিত অপর এক সাংবাদিক পরিচয়ধারী। একাধিক বছর পলাতক থেকে অবশেষে নিজেকে আত্মরক্ষা করেন চোরাচালানের সেই চার্জশীটভুক্ত আসামী। বছরখানেক পর ওই সাংবাদিক পরিচয়ধারী ফের বিজিবির হাতে আটক হন অন্য অপরাধে। দিনভর বালিয়াঘাট বিওপি-তে আটক থাকার পর তৎকালীন বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল তাজুল ইসলাম ঠাকুর মুছলেকা নিয়ে মানবিক দয়ায় ছেড়ে দেন ওই সাংবাদিক পরিচয়ধারীকে। গেল ১০১৫ সালে সীমান্তে চাঁদাবাজির দায়ে গণধোলাই খেয়ে অপর এক সাংবাদিক পরিচয়ধারী আটক হন টাঙ্গুয়া হাওরে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর হাতে। পরবর্তীতে একমাস কারাভোগ করেন সীমান্তের ওই সাংবাদিক পরিচয়ধারী চাঁদাবাজ। ইতোমধ্যে তাদের অপকর্মের তথ্য-প্রমাণ এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।