1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন লাখাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু

বিদেশি ইঞ্জিনিয়ার বনাম দেশি মেধা: আমাদের প্রযুক্তি শিক্ষার করুণ বাস্তবতা

দৈনিক প্রথম সিলেট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩১৬ বার পঠিত

মুরাদ হাসান, সিলেট:- বাংলাদেশ আজ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টরে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে আমরা প্রতিনিয়ত বিদেশি ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতি দেখতে পাই। বিশেষ করে চীন, ভারত কিংবা অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞরা এসব সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অথচ, একই জায়গায় আমাদের দেশীয় ডিপ্লোমাধারী যুবকেরা কেবল সহকারী বা জুনিয়র পর্যায়ের কাজ করে যাচ্ছেন।

এটাই আজকের নির্মম বাস্তবতা। আমাদের দেশে অসংখ্য টেকনিক্যাল কলেজ রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে বের হয়। কিন্তু তাদের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধার সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো মিল নেই। একদিকে বুয়েট, রুয়েট, শাবিপ্রবি কিংবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে এসি, আধুনিক ল্যাব ও আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে টেকনিক্যাল কলেজগুলোতে ন্যূনতম একটি সিলিং ফ্যানও থাকে না, ল্যাবরেটরি অনেক ক্ষেত্রেই অচল বা আধুনিক সরঞ্জামশূন্য।

রাষ্ট্রীয় নীতির আরেকটি বৈপরীত্যও চোখে পড়ে। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শত শত মেধাবী ছাত্রছাত্রী বের হচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। অথচ এই মেধাবীরা রাষ্ট্রীয় গবেষণা বা শিল্পোন্নয়নে বড় কোনো অবদান রাখতে পারছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সীমিত সংখ্যক সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি ইঞ্জিনিয়াররা একই খাতে আসছে এবং উচ্চ বেতনে কাজ করছে। ফলে দেশের সম্পদ যেমন বাইরে যাচ্ছে, তেমনি আমাদের মেধার সঠিক ব্যবহারও হচ্ছে না।

প্রশ্ন হচ্ছে,স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আমরা কেন একজনও বিশ্বমানের বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তি উদ্ভাবক তৈরি করতে পারিনি? কেন আমাদের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল সনদপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো, উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠলো না?

আসলে এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের পরিকল্পনা ও মানসিকতায়। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে চাকরী নির্ভর করে রেখেছি, দক্ষতা ও গবেষণার দিকে মনোযোগ দেইনি। ফলে ছাত্ররা বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, তারা হয়ে উঠছে কেবল ডিগ্রিধারী।

এখন সময় এসেছে ভিন্নভাবে ভাবার। টেকনিক্যাল কলেজগুলোতে আধুনিক ল্যাব, গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ সুযোগ বাড়াতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিদেশি ইঞ্জিনিয়ারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মেধা কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রকে চাই প্রকল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।

নইলে, বিদেশিরা আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং নেতৃত্ব দেবে আর আমাদের সন্তানরা হবে কেবল সহকারী কর্মী,এই বৈষম্য থেকে আমরা কোনোদিনই মুক্তি পাব না।

লেখক: মুরাদ হাসান (জৈন্তাপুর) সিলেট।

দৈনিক প্রথম সিলেট।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর