1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার লাখাই উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন। সভাপতি পারভেজ/ সম্পাদক মনি শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ নিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান, আগামীকাল শখের নৌকাবাইচ শান্তিগঞ্জে ডেকোরেটার্স মালিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত লাখাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রান্তিক মানুষের কথা শুনবে সরকার, শ্রীমঙ্গলে নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং নিয়ে কর্মশালা

বিদেশি ইঞ্জিনিয়ার বনাম দেশি মেধা: আমাদের প্রযুক্তি শিক্ষার করুণ বাস্তবতা

দৈনিক প্রথম সিলেট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৯২ বার পঠিত

মুরাদ হাসান, সিলেট:- বাংলাদেশ আজ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টরে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে আমরা প্রতিনিয়ত বিদেশি ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতি দেখতে পাই। বিশেষ করে চীন, ভারত কিংবা অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞরা এসব সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অথচ, একই জায়গায় আমাদের দেশীয় ডিপ্লোমাধারী যুবকেরা কেবল সহকারী বা জুনিয়র পর্যায়ের কাজ করে যাচ্ছেন।

এটাই আজকের নির্মম বাস্তবতা। আমাদের দেশে অসংখ্য টেকনিক্যাল কলেজ রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে বের হয়। কিন্তু তাদের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধার সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো মিল নেই। একদিকে বুয়েট, রুয়েট, শাবিপ্রবি কিংবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে এসি, আধুনিক ল্যাব ও আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে টেকনিক্যাল কলেজগুলোতে ন্যূনতম একটি সিলিং ফ্যানও থাকে না, ল্যাবরেটরি অনেক ক্ষেত্রেই অচল বা আধুনিক সরঞ্জামশূন্য।

রাষ্ট্রীয় নীতির আরেকটি বৈপরীত্যও চোখে পড়ে। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শত শত মেধাবী ছাত্রছাত্রী বের হচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। অথচ এই মেধাবীরা রাষ্ট্রীয় গবেষণা বা শিল্পোন্নয়নে বড় কোনো অবদান রাখতে পারছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সীমিত সংখ্যক সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশি ইঞ্জিনিয়াররা একই খাতে আসছে এবং উচ্চ বেতনে কাজ করছে। ফলে দেশের সম্পদ যেমন বাইরে যাচ্ছে, তেমনি আমাদের মেধার সঠিক ব্যবহারও হচ্ছে না।

প্রশ্ন হচ্ছে,স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আমরা কেন একজনও বিশ্বমানের বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তি উদ্ভাবক তৈরি করতে পারিনি? কেন আমাদের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল সনদপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো, উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠলো না?

আসলে এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের পরিকল্পনা ও মানসিকতায়। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে চাকরী নির্ভর করে রেখেছি, দক্ষতা ও গবেষণার দিকে মনোযোগ দেইনি। ফলে ছাত্ররা বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, তারা হয়ে উঠছে কেবল ডিগ্রিধারী।

এখন সময় এসেছে ভিন্নভাবে ভাবার। টেকনিক্যাল কলেজগুলোতে আধুনিক ল্যাব, গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ সুযোগ বাড়াতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিদেশি ইঞ্জিনিয়ারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মেধা কাজে লাগাতে হবে। রাষ্ট্রকে চাই প্রকল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা।

নইলে, বিদেশিরা আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং নেতৃত্ব দেবে আর আমাদের সন্তানরা হবে কেবল সহকারী কর্মী,এই বৈষম্য থেকে আমরা কোনোদিনই মুক্তি পাব না।

লেখক: মুরাদ হাসান (জৈন্তাপুর) সিলেট।

দৈনিক প্রথম সিলেট।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর