1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

ঈমানের নামে রাজনীতি, গণতন্ত্র, ভণ্ডামি ও এক অনিবার্য প্রতিবাদ

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান, কায়রো, মিশর থেকে:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৪৭ বার পঠিত

 

আমি ব্যক্তিগতভাবে গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ নই। রাজনীতি নিয়েও আমার নিয়মিত লেখালেখি নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি এতটাই কলুষিত, এতটাই রক্ত, চাঁদাবাজি ও প্রতারণায় ভরা যে—তা নিয়ে লিখতে আমার রুচিতে আসে না। কিন্তু যখন এই নোংরা রাজনীতির আড়ালে সাধারণ, নিষ্পাপ মুসলমানদের ঈমানকে পুঁজি বানানো হয়, যখন মানুষের আমল, আকিদা ও পরকালের ভয়কে ভোটের মিছিলে নামানো হয়—তখন নীরব থাকা আর সম্ভব হয় না।

ইসলামের নামে ভণ্ডামি শুরু হলে সেখানে চুপ থাকা কোনো ভদ্রতা নয়—তা সরাসরি অপরাধ।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো জুলুম করবে, চাঁদাবাজি করবে, ক্ষমতার জন্য রক্ত ঝরাবে—এটা দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয়। কারণ তারা নিজেদের রাজনীতির সঙ্গে ইসলামকে জড়িয়ে বৈধতা খোঁজে না। তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে না। তাই তাদের অপরাধ রাজনৈতিক, প্রকাশ্য এবং নগ্ন। তারা অপরাধী—নিশ্চয়ই। কিন্তু ইসলামের নাম ব্যবহার করে যে অপরাধ করা হয়, তার ক্ষতি হাজার গুণ বেশি। কারণ সেখানে শুধু মানুষ নিপীড়িত হয় না—ধ্বংস হয় বিশ্বাস, ভেঙে পড়ে ঈমান।

গণতন্ত্রে মুসলমান নিরাপদ নয়—এটা তাত্ত্বিক কথা নয়, বাস্তব সত্য। আর বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে সেই অনিরাপত্তা আরও নির্মম। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর আগে, কিন্তু জনগণ আজও স্বাধীন হয়নি। তখন পাকিস্তানিরা জুলুম করত, আজ দেশীয় শাসকেরা করে—পার্থক্য শুধু শাসকের পরিচয়ে, জুলুমের স্বাদ একই।

এই গণঅভ্যুত্থানে আমরা কী অর্জন করেছি? একজন স্বৈরাচার সরিয়েছি, আরেকজন বিদেশি দালাল বসিয়েছি। যদি সত্যিকার অর্থে বর্তমান উপদেষ্টারা জনগণের প্রতিনিধি হতেন, তাহলে হাদি হত্যার বিচার এতদিন ঝুলে থাকত না। দিনের আলোয় রাস্তায় গুলি খেয়ে একজন তরুণ প্রাণ হারাল—রাষ্ট্র আজও বিচার দিতে পারেনি। এটা কি অক্ষমতা, না জনগণের সঙ্গে নগ্ন বিশ্বাসঘাতকতা?

এই দীর্ঘ হতাশার ভেতর সাধারণ মানুষ বিশ্বাসের আশ্রয় খুঁজেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের দিকে। কিন্তু আজ সেই বিশ্বাসও ভাঙছে। কারণ ইসলামের নাম ব্যবহার করে মানুষের আবেগকে পুঁজি বানিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলামকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

মাওলানা আবুল আলা মওদূদী রহ. এর জামায়াত আজ আর নেই। নামটি আছে, কিন্তু চিন্তাধারা নেই। মওদূদী রহ. কখনো ইসলামকে গণতন্ত্রের ভেতর ঢুকিয়ে রাজনৈতিক খিচুড়ি বানাননি। তিনি ইসলামকে ক্ষমতার দাস বানাননি। অথচ আজকের কিছু নেতার বক্তব্য শুনলে স্পষ্ট বোঝা যায়,ক্ষমতার লোভে মওদূদীর চিন্তাধারাকেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ এমন এক ভয়ংকর পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে পরিস্থিতি, যখন ইসলামী দলের পরিচয়ধারী কিছু নেতার মুখ থেকে এমন কথা বের হয়—যা শুনে ঈমান কেঁপে ওঠে। যখন গণতান্ত্রিক ভোটকে জান্নাত-জাহান্নামের চূড়ান্ত দলিল বানানো হয়, যখন নবীদের কুরবানির সঙ্গে ব্যালটের তুলনা করা হয়—তখন চুপ থাকা মানে এই ভণ্ডামির দায় নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।

রাজনীতি করুন—আপনাদের অধিকার। ক্ষমতার চেষ্টা করুন—সেটাও আপনাদের বিষয়। কিন্তু মানুষের ঈমান নিয়ে খেলবেন না। ইসলামের পবিত্রতাকে ব্যালট বাক্সে নামাবেন না। আল্লাহর দ্বীনকে রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত করবেন না। মনে রাখবেন—মানুষের আদালত এড়িয়ে যাওয়া যায়, ইতিহাসকে বিভ্রান্ত করা যায়, কিন্তু আল্লাহর আদালত থেকে পালানোর কোনো রাস্তা নেই।

ইসলামকে ইসলামের জায়গায় থাকতে দিন। রাজনীতিকে রাজনীতির জায়গায় রাখুন। দ্বীনকে ক্ষমতার খিচুড়িতে পরিণত করবেন না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর