1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জৈন্তাপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ আটক ৩ শান্তিগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতা সাজল আহমদের দাফন সম্পন্ন, পরিবারে শোকের মাতম সুবিপ্রবির দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও তৃতীয় ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন বিএনপি নেতা সাজলের আকস্মিক মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল

নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী লুটের প্রধান হোতা সুবেদ মিয়া। প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ মাটি–বালু ব্যবসা

স্টাফ রিপোর্টার:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার পঠিত

নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী যেন এখন সুবেদ মিয়ার সাম্রাজ্য। দিনের আলোয়, মানুষের চোখের সামনে, প্রশাসনের নাকের ডগায়—প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের ভয়াবহ উৎসব। উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সুবেদ মিয়া দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এই নদী লুটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এছাড়া এ ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন কসবা গ্রামের এশাফর মিয়া, রাসেল মিয়া ছাবু মিয়া ও সুনাম উদ্দিন। এদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এতটাই পোক্ত যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালাতে গেলেই আগেই খবর পেয়ে যায় এই চক্র। বিভিন্ন পয়েন্টে রোজ বেতনে নিয়োগ দেওয়া লোকজন থাকে পাহারায়। ফলে প্রশাসন আসে, কিন্তু অপরাধীরা ধরা পড়ে না।

সরেজমিনে যা দেখা যায়,কুশিয়ারা নদীর চর ও মূল স্রোতে চলছে দিবালোকে বালু–মাটি উত্তোলন। সুবেদ মিয়ার নেতৃত্বে একের পর এক ট্রাকে লোড করে মাটি পাঠানো হচ্ছে নিকটস্থ হাফিজ ব্রিক ফিল্ডে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই নির্বিচার বহন। এতে ইনাতগঞ্জ–চরগাঁও সড়ক ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ গর্ত, যা বৃষ্টির দিনে শিক্ষার্থী ও রোগী সাধারনসহ গ্রামবাসীর জন্য রীতিমতো দুর্ভোগে পরিণত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে সুবেদ মিয়া কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। একাধিক ট্রাক,গাড়ির মালিকও হয়েছেন নদী লুটের টাকায়। এত প্রভাব ও ভয়-ভীতি যে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না।

নদীবিদরা বলছেন, এভাবে বালু,মাটি উত্তোলনে কুশিয়ারা নদীর চর ধ্বংস হচ্ছে, স্রোতপথ বদলে যাচ্ছে। নদীভাঙন, ফসলি জমি নষ্ট হওয়া, পরিবেশ ধ্বংস,সব কিছুর গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি,জরিমানা দিয়ে লাভ নেই। ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা জরিমানা তাদের কাছে কিছু না। সোজা মামলা করতে হবে। কড়া শাস্তি ছাড়া সুবেদগংদের থামানো যাবে না।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন,অবৈধভাবে মাটি–বালু উত্তোলনকারী যেই হোক, তদন্ত শেষে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের অভিযান চলছে এবং চলমান থাকবে।

এখন প্রশ্ন,প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কি থামবে সুবেদ মিয়ার বালু–মাটি সাম্রাজ্য?

নাকি কুশিয়ারা নদী একদিন সত্যি সত্যিই মানচিত্রের নদী থেকে লোককথার নদীতে পরিণত হবে? সময়ের কাছে প্রশ্ন রেখে যায় নবীগঞ্জবাসী,

কুশিয়ারা কি বাঁচবে, নাকি মাটি–বালু মাফিয়াদের থাবায় বিলীন হবে নদী, কৃষি ও পরিবেশ?

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর