1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালুর কারবার, জব্দ ১০ হাজার ঘনফুট

নূর মোহাম্মদ সাগর, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০১ বার পঠিত

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে উত্তোলন ও মজুত করা প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিলাশছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এই বালু জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের অভিযান ও জব্দের পরও কীভাবে একই এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে?

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিলাশছড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে উত্তোলন করে মজুত করা বিপুল পরিমাণ বালুর সন্ধান মেলে। পরিমাণ নির্ধারণের পর প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।

প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা বালু স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

বারবার অভিযান, তবু থামছে না

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে চলতি বছরও একাধিক অভিযান হয়েছে। জুলাইয়ে ভূনবীর ইউনিয়নের আলিসার কুল এলাকায় প্রশাসনের অভিযানে প্রায় ৮ হাজার ঘনফুট বালুর পাশাপাশি একটি এক্সক্যাভেটর, পাঁচটি বালু উত্তোলনের মেশিন ও প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ জব্দ করা হয়েছিল। সেবারও অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।

এর আগে মার্চে সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাংলিয়াছড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।

অর্থাৎ, অভিযান ও জব্দের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এক অভিযানের পর আরেক অভিযানে আবারও বিপুল পরিমাণ অবৈধ বালু উদ্ধারের ঘটনা প্রশ্ন তুলছে—শুধু জব্দ ও জরিমানায় কি এই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব?

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

বালু উত্তোলন কেবল অর্থনৈতিক অনিয়মের বিষয় নয়; অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী, ছড়া, কৃষিজমি ও স্থানীয় প্রতিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শ্রীমঙ্গল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নদী, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও কৃষিজমি রক্ষার স্বার্থে আইন মেনে বালু উত্তোলনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত বা নির্দিষ্ট পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এই ঘটনার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন চললে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও জলপ্রবাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে—এ কারণে নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

শনাক্ত হবে কারা?

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “জব্দ করা বালুর বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এখন স্থানীয়দের মূল প্রশ্ন—১০ হাজার ঘনফুট বালু কোথা থেকে উত্তোলন করা হয়েছে, কারা তা উত্তোলন ও মজুতের সঙ্গে জড়িত এবং এত বিপুল পরিমাণ বালু মজুত করার পরও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে কি না।

অভিযানে বালু জব্দ হয়েছে; কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে একই স্থানে পুনরায় বালু উত্তোলন ঠেকানোই এখন প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর