1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জৈন্তাপুরের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চান নবাগত (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন জৈন্তাপুরে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ আটক ৩ শান্তিগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতা সাজল আহমদের দাফন সম্পন্ন, পরিবারে শোকের মাতম সুবিপ্রবির দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও তৃতীয় ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন বিএনপি নেতা সাজলের আকস্মিক মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

আইনজীবী সমিতিতে ভরাডুবি: সিলেট বিএনপিতে বহিষ্কার আতঙ্ক

প্রথম সিলেট ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ৪২৪ বার পঠিত

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদ সহ অধিকাংশ পদে বিএনপি সমর্থিতদের ভরাডুবি ও দক্ষিণ সুরমার সিলামের রিজেন্ট পার্কে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিবাহের ঘটনায় বিএনপির হাই কমান্ড চরম ক্ষুদ্ধ। দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের ষড়যন্ত্রের কারণে আইনজীবী সমিতিতে ভরাডুবি ও রিজেন্ট পার্কের ঘটনায় বিএনপি কয়েক নেতার নাম উঠে আসায় ইতিমধ্যেই সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি। আইনজীবী সমিতিতে ভরাডুবির কারণ অনুসন্ধানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় তিন নেতার সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। সিলাম রিজেন্ট পার্কের ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপর অসন্তুষ্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সার্বিক প্রেক্ষাপটে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সিলেট বিএনপির একাধিক নেতা এখন বহিস্কার আতংকে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলা বারের পিপি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে এডভোকেট এটিএম ফয়েজের দুরত্ব তৈরী হয়। বিএনপির প্রস্তাবিত পিপিকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এডভোকেট এটিএম ফয়েজ পিপি পদে নিয়োগ পেলে বেকে বসেন সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী মদদে তাদের ঘনিষ্ট পিপি পদ প্রত্যাশী জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট সাঈদ আহমদ ও সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ওবায়দুর রহমান ফাহমি সহ ৪০/৫০ জন আইনজীবী বহিরাগতদের সহযোগিতায় আদালত পাড়ায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করেন। নিয়োগপ্রাপ্ত পিপি এডভোকেট ফয়েজের বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে পিপি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এক পর্যায়ে মন্ত্রণালয় থেকে এটিএম ফয়েজকে পিপি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট আশিক উদ্দিনকে নতুন পিপি হিসেবে নিয়োগ দেন।

সিলেট জেলা আইনবীজী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিতদের ভরাডুবি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে পিপি নিয়োগের বিষয়টি। পিপি হতে না পারার ক্ষোভ থেকে ও আদালত পাড়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে ফয়েজ ঠেকাও মিশনে নামেন সিলেট জেলা বিএনপি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তারা প্রথমে সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নুরুল হককে সভাপতি পদপ্রার্থী করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটিকে দিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ায় এডভোকেট এটিএম ফয়েজকে বহিস্কারের চেষ্টা করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এডভোকেট নুরুল হক সভাপতি ও মশরুর চৌধুরী শওকত সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী। এডভোকেট নুরুল হককে দিয়ে নির্বাচনে সুবিধা করা যাচ্ছে না নিশ্চিত হওয়ার পর তারা কৌশল পরিবর্তন করেন। নুরুল হকে তারা নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের নিজস্ব বলয়ের ভোটগুলো ফয়েজ ও শওকতকে ঠেকাতে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী আবদাল ও জুবায়েরকে দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন। যা আদালত পাড়ায় অনেকটা চাউর হয়ে পড়ে। গোপন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে রাতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বরখাস্তকৃত সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টুর বাসায় আওয়ামী পন্থি আইনজীবীদের সাথে ভোজসভায় অংশ নেন জেলা বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন আইনজীবী নেতা। সেখানে রফাদফা হয় ফয়েজ-শওকত ঠেকানোর পরিকল্পনা। একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে পিপি না হতে পারার প্রতিশোধ ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফয়েজ ও শওকতকে বলি দেন সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ফয়েজ সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। তিনি এলাকায় কাইয়ুম চৌধুরী বিরোধী বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে সুসম্পর্কযুক্ত। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শওকত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী নির্বাচনী এলাকার প্রতিপক্ষ ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ঘনিষ্ট বন্ধু ও আত্বীয়।

এদিকে রিজেন্ট পার্কের ঘটনার দেশ বিদেশে তোলপাড় চলছে। এঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠেছে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর একান্ত ঘনিষ্টজন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কোহিনুর আহমদ ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল সহ কয়েকজনের নাম।

একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সিলেট জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চরম নাখোশ বিএনপি হাইকমান্ড। গুঞ্জন রয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি যেকোনো সময় ভেঙ্গে দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি আচ করতে পেরে কমিটি বাঁচাতে ও নিজেরা সাংগঠনিক শাস্তি থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর