1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান Md. Motiur Rahman’s travel permit to the United Arab Emirates শান্তিগঞ্জে সবার জন্য প্রত্যাশা সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় উদ্বোধন

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান

লেখক: জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫
  • ১১৪ বার পঠিত

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১০৮৫ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। মিশরের কায়রো শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ফাতিমি খলিফা আল-মুইয লি-দিনিল্লাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কেন্দ্র নয়, বরং সমগ্র মানবতার জন্য একটি উজ্জ্বল শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

শুরুতে একটি মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, দ্রুত তার প্রভাব বিস্তার করে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং সম্মানিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আল-আজহার। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ইসলামের “ইলমের কাবা” বা জ্ঞানী ব্যক্তিদের মক্কা বলা হয়, যেখানে এক সময় কেবল ইসলামিক শিক্ষা দেয়া হত। তবে সময়ের সাথে সাথে এখানে গড়ে উঠেছে বৈশ্বিক শিক্ষার এক বিস্তৃত ক্ষেত্র, যেখানে গণিত, দর্শন, চিকিৎসা, রসায়ন, সমাজ বিজ্ঞানসহ নানা শাখায় শিক্ষা দেওয়া হয়।

আজকের দিনে, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যাদের মধ্যে বিশ্বের ১২০টিরও অধিক দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত। এটি শুধুমাত্র মিশরীয়দের জন্য নয়, বরং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী ইসলামী শিক্ষার সঠিক উপস্থাপন ও প্রয়োগের পথে আল-আজহার একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া, আল-আজহারের শিক্ষকদের সংখ্যা ৫০,০০০-এরও অধিক। তারা কেবল ইসলামী শিক্ষার প্রতিপাদক নয়, বরং পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর গবেষণায় নিযুক্ত আছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে আজহারের শিক্ষার্থীরা শুধু ইসলামী ধর্মীয় জ্ঞানেই নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মানবিক বিজ্ঞান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহ্য ও গবেষণার মাধ্যমে, আল-আজহার বিশ্বব্যাপী ইসলামী চিন্তা ও শান্তির এক অগ্রণী প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এটি উগ্রতার বিরুদ্ধে এবং ইসলামের প্রকৃত শান্তির বার্তা প্রচারের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আল-আজহার, ইসলামী সমাজে মধ্যপন্থার এক শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে তার অবস্থান অটুট রেখেছে এবং এক্ষেত্রে তা বিশ্বের মুসলিম জনগণের জন্য এক আদর্শ স্থানে পরিণত হয়েছে।

আজ, ১০৮৫ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের পরও, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও মিশনের সাথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, একটি আলোকিত শিক্ষার প্রতীক হিসেবে, যা ইসলামী সভ্যতার এক মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে শিক্ষার পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো মিশর

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর