
সিলেটের পাহাড়ঘেরা জনপদ জৈন্তাপুর। এ জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর রাজনীতির ভাঁজে ভাঁজে বহু সংগ্রামী নেতৃত্বের গল্প জড়িয়ে আছে। সেই গল্পের নতুন অধ্যায়ের নাম ইন্তাজ আলী—একজন সংগঠক, একজন জনপ্রতিনিধি এবং সর্বোপরি, একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
নয়াখেল গ্রামের আলহাজ্ব আলী আহমদের পঞ্চম সন্তান ইন্তাজ আলীর জন্ম ১৯৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। পিতৃভূমির মাটি, মায়া আর মানুষের সঙ্গে নিবিড় বন্ধনে গড়ে উঠেছে তাঁর শৈশব। সেই শৈশব থেকেই নেতৃত্বের বীজ রোপিত হয়েছিল তার অন্তরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে আজ একটি পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষে পরিণত হয়েছে, যার ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে নিজপাট ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ।
ইন্তাজ আলীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু কলেজ জীবন থেকেই। ১৯৯৩ সালে জৈন্তিয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বগুণ প্রথমবারের মতো সংগঠনের পরিসরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এরপর ধাপে ধাপে তিনি এগিয়ে গেছেন – ১৯৯৬ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৪ সালে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৯ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে।
তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ২০২২ সাল। ওই বছর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি, ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ১নং নিজপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তবে পদ-পদবির বাইরে, ইন্তাজ আলী এক জনসাধারণের মানুষ। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে প্রতিফলিত হয় জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, এবং তাঁর সংগঠকসত্তায় প্রকাশ পায় নেতৃত্বের সূক্ষ্মতম গুণাবলী—সহিষ্ণুতা, সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দক্ষতা এবং মাঠ পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। তিনি রাজনীতিকে দেখেন জনসেবার পবিত্র মাধ্যম হিসেবে, যেখানে স্বার্থ নয়, বরং আদর্শই মূল চালিকাশক্তি।
স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা—প্রতিটি খাতে ইন্তাজ আলী একটি কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছেন। ইউনিয়ন পরিষদকে জনতার দরজায় নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা, তা তাকে দিয়েছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা। একদিকে তিনি যেমন রাজপথের সাহসী কণ্ঠস্বর,তেমনি ইউনিয়ন প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক।
ইন্তাজ আলীর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সংগঠক জন্মায় না, গড়ে ওঠে সময়ের ছাঁকনি দিয়ে, ত্যাগের আগুনে পুড়ে। তাঁর নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও সংগঠনপ্রেম আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য হতে পারে এক অনুপ্রেরণার আলো।
– লেখক স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজ বিষয়ক কলাম