1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার লাখাই উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন। সভাপতি পারভেজ/ সম্পাদক মনি শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ নিয়ে দ্বন্দ্বের অবসান, আগামীকাল শখের নৌকাবাইচ শান্তিগঞ্জে ডেকোরেটার্স মালিক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত লাখাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রান্তিক মানুষের কথা শুনবে সরকার, শ্রীমঙ্গলে নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং নিয়ে কর্মশালা

চা পাতার আড়ালে বিষধর কোবরা, আতঙ্কে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ

নূর মোহাম্মদ সাগর, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬২ বার পঠিত

 

চা পাতা তুলতে গিয়ে আরেকটু এগোলেই বিপদ ঘটতে পারত। হাত বাড়িয়ে পাতা তোলার সময় ঝোপের আড়ালে বিষধর সাপের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কে কাজ বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। দ্রুত সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান তাঁরা। পরে খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা বাগানের একটি অংশে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া সাপটি বিষধর চশমা কোবরা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল।

পাতা তুলতে গিয়ে হঠাৎ সাপ

বাগান সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড় ও চা গাছের পাতার আড়ালে একটি সাপ দেখতে পান কয়েকজন শ্রমিক। সাপটি বিষধর বুঝতে পেরে তাঁরা আর ঝুঁকি নেননি। সঙ্গে সঙ্গে পাতা তোলা বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

পরে বিষয়টি বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিডন গৌর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে তাঁরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “উদ্ধারকৃত সাপটি একটি বিষধর চশমা কোবরা।”

পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গলে বন অধিদপ্তরের রেঞ্জ অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

ঝুঁকি নিয়েই চা পাতা সংগ্রহ

চা-বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য সাপের মুখোমুখি হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। ঘন ঝোপঝাড়, চা গাছের নিচের আর্দ্র পরিবেশ ও পাতার আড়াল সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রতিদিন চা পাতা সংগ্রহের সময় অনেকটা অদৃশ্য ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয় শ্রমিকদের।

শ্রমিকদের ভাষ্য, চা পাতা তুলতে গিয়ে কখনো কখনো ঝোপের মধ্যে সাপ দেখা যায়। তবে বিষধর সাপ চোখে পড়লে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো উপায় থাকে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত দিয়ে চা পাতা সংগ্রহের সময় শ্রমিকদের হাত ও মুখমণ্ডল চা গাছের পাতার খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে পাতার আড়ালে থাকা সাপ সম্পর্কে আগে থেকে বুঝতে না পারলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সাপের আবাসস্থলেই মানুষের কর্মস্থল

শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানগুলো শুধু চা উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; একই সঙ্গে এসব এলাকা বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও। বন ও চা-বাগানসংলগ্ন এলাকায় মানুষের কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও সামনে আসছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সাপ লোকালয়ে বা কর্মস্থলের কাছাকাছি চলে এলে সেটিকে অকারণে হত্যা না করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। বিশেষ করে বিষধর সাপ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তিরা নিজেরা ধরতে গেলে উল্টো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাঁরা বলেন, চা-বাগানে নিয়মিত কাজ করা শ্রমিকদের সাপ সম্পর্কে প্রাথমিক সচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ভুরভুরিয়া চা বাগানের এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোনো শ্রমিক হতাহত না হলেও ঘটনাটি চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর