
স্টাফ রিপোর্টার:- সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন সাহেবের বাজার এলাকায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে।
গতকাল রোববার (২১ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, সাহেবের বাজারের তুষার স্টোন ক্রাশার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ তুষার এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জালাল উদ্দীন চাঁদা দাবী করেন। এ সময় ফরিদ আহমদ তুষার জালাল উদ্দীনকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। তাদের হামলার সে গুরুতর আহত হয়।
একই ভাবে গতকাল ২১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে ভাঙচুর করে।এতে তার বাড়ির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার সময় ফরিদ আহমেদ তুষার বাড়িতে না থাকায় তিনি রক্ষা পান। এ সময় জালাল উদ্দীন হুমকি দিয়ে জানায়, আগামী ৫ দিনের মধ্যে ফরিদ আহমেদ তুষারকে খুঁজে না পেলে তার পরিবারের ওপর “ভয়াবহ ক্ষতি” করা হবে। যা কেউ রক্ষা করতে পারবেনা।
এ বিষয়ে তুষার স্টোন ক্রাশার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ তুষার জানান, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর থেকেই আমার এলাকায় আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজির পরিমাণ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘তুষার স্টোন ক্রাশার’ থেকেও আওয়ামী লীগের নেতারা চাঁদা আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করে। আওয়ামী লীগ নেতা মো. নিজাম উদ্দিনের নির্দেশে গত ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর জালাল উদ্দিন প্রথমবার আমার নিকট চাঁদা দাবি করে।
তিনি আরো জানান, আমি কোনোদিন অন্যায় দাবীর কাছে মাথা নত করিনি। এর ফলস্বরূপ, একইভাবে গত ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা আমার অনুপস্থিতিতে জোর করে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর বিগত ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ইংরেজি ও ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি আবারও আমার কাছে চাঁদা দাবি করে, যা আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। সর্বশেষ আমি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় জালাল উদ্দিন আমাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করার চেষ্টা করে এবং ভয়াবহ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকার হুমকি দেয়।
এ ঘটনার পর আমি ৩ জানুয়ারি ২০২৪ সালে এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে যাই। থানায় এ সময় দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার এসআই সুলাইমান মিয়া আমার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহন করেননি। উল্টো তিনি আমাকে বলেন, এরা বর্তমান সরকার দলের নেতা তাই আমি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবো না। তাই আমার পক্ষে অভিযোগ গ্রহন করা সম্ভব নয়। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে সু-বিচার না পেয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে আছি।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাকে “গুরুতরভাবে হত্যা করার” পরিকল্পনা করছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে, কারণ আমি তাদের অন্যায়ের বিরোধিতা করেছি। আমি তাদের বিচার চাই।
তিনি আরো জানান, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আমাকে “পাগলের মতো” খুঁজতেছে। আমি আশঙ্কা করিতেছি যে, আমাকে যেখানে পাবে সেখানে সে মেরে ফেলবে। আমি সবসময় আতঙ্কের মধ্যে আছি।
বর্তমান শাসক দলের নেতাকর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে নির্যাতন করে আসছে তা পুরো জাতি জানুক। পাশাপাশি আমার সাথে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনাগুলো সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ জানাই।
এ বিষয়ে সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।