1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতা সাজলের আকস্মিক মৃত্যুতে এমপি কয়ছর আহমদ সহ বিভিন্ন মহলের শোক শ্রীমঙ্গলে দস্যুতার মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫, মিশুক ও পিকআপ খাদে শান্তিগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শান্তিগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বানিয়াচংয়ে শাহ আলমের রুহের মাগফিরাত কামনায় এসএসসি-২০১১ ব্যাচের উদ্যোগে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল সিলেট সীমান্তে ভারতীয় এয়ারগান ও ওয়াকিটকি উদ্ধার, ২১ লাখ টাকার পণ্য জব্দ যুব দিবস উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চেয়ারম্যান আজাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ইউনিয়নবাসী, অপপ্রচার বন্ধে আলটিমেটাম জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের যোগদান

সিলেট সদর ভূমি অফিসে দৃষ্টিনন্দন ‘ভূমিকুঞ্জ’ নজরকাড়ে সবার

মো. মতিউর রহমান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৪৫৭ বার পঠিত
মো. মতিউর রহমান:- সিলেট সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ‘ভূমিকুঞ্জ’ নামের সেবাগ্রহীতার স্বস্তির স্থান নামক বসার স্থান নজর কাড়ে সবার। নাগরিকদের জন্য এমন নান্দনিক বসার ব্যবস্থা করায় খুশি সবশ্রেনী পেশার মানুষ। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা নাগরিকরা এর আগে কখনও বসার এমন সুন্দর পরিবেশ পায়নি।
ভূমি অফিসে গেলেই চোখে পড়বে ‘ভূমিকুঞ্জ’ আপনি স্বাগত! সেবাগ্রহীতার স্বস্তির স্থান, এই লেখাটি সাধারণ মানুষের নজর কাড়ে সবচেয়ে বেশি। সিলেট সদর উপজেলা ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের বসার কোন ব্যবস্থা এর আগে ছিলো না। বা কেউ কোনোদিন এমন উদ্যোগ নেয়নি। এতদিন সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে গিয়ে বসার কোনো জায়গা না থাকায়, দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট করে সেবা নিয়ে আসতো।
মানুষের এমন দুর্ভোগ লাগব করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন বর্তমান সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মাহবুবুল ইসলাম। তিনি এই অফিসে যোগদান করার পর থেকে পাল্টে যায় পুরো অফিসের চিত্র। এ ভূমি অফিসটি বিভাগীয় সদর ভূমি অফিস হওয়ায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষের ভীড় কয়েকগুণ বেশি থাকে। ফলে সাধারণত মানুষের বসার কোনো জায়গা না থাকায় তাদের কষ্টের শেষ নেই। বিষয়টি সহকারী কমিশনার ভূমির নজরে আসে। তিনি নাগরিকদের মনোরম পরিবেশে বসার ব্যবস্থা করার জন্য কাজ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন।
ভবনের ২য় তলায় সাধারণ নাগরিকদের বসার স্থান নির্মানের কাজ শুরু করেন প্রথমে লাল টিনের ছাউনি দিয়ে ‘ভূমিকুঞ্জ’ ঘর নির্মান করেন।
মানুষ বসার জন্য বেঞ্চ, চেয়ার, বিশুদ্ধ পানি পান করার জন্য পানির ফিল্টার, প্রশান্তির জন্য ফ্যান লাগিয়ে ভূমিকগঞ্জের নান্দনিক রূপ ফুটে তুলেন। চারদিকে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ দিয়ে। এ সুন্দর পরিবেশে দেখলে যে কারোরই ভালো লাগবে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মূল ভবনে নতুন করে লাগানো হয়েছে ক্লাসফুল গেইট। পাশাপাশি গেটের দু’পাশে নতুন প্রাচীর নির্মাণ করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এস এস থাই গ্রীল।
সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিক খাদিমনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আকশাফ আহমদ বলেন, এর আগে এই অফিসে কখনও বসার এমন সুন্দর পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে ভূমিকুঞ্জ নামে নতুন ঘর তৈরি করা হয়েছে। নতুন বসার স্থান পেয়ে আমরা অনেক খুশি, এমন মনোমধ্যকর বসার ব্যবস্থা করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
লাখাউরা গ্রামের বাসিন্দা এমডি শামীম আহমদ ও মুতার হোসেন বলেন, আজ আমি নামজারী শুনানিতে এ অফিসে এসেছি। বিগত ১ বছর আগে এ অফিসে এসেছিলাম, এখানে মানুষ বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আজ মামলার শুনানি ছিল এসে দেখলাম সুন্দর পরিবেশে ভবনের ২য় তলায় বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। শুনলাম মাহবুবুল স্যার এ ভূমি অফিসে আসার পর তার উদ্যোগে করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ‘ভূমিকুঞ্জ’ স্বস্তির স্থানে বসে সত্যিই স্বস্তি পেলাম।
এ বিষয়ে সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মাহবুবুল ইসলামের সাথে ‘ভূমিকুঞ্জ’ স্বস্তির স্থান নিয়ে সরাসরি আলাপকালে তিনি জানান, এই ভূমি অফিসে সম্মানিত সাধারণ নাগরিকদের ভীড় অন্যান্য ভূমি অফিস থেকে অনেক বেশি থাকে। কিন্তু আমার অফিসের ২য় তলায় সম্মানিত নাগরিকদের বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আমি এই ভূমি অফিসে যোগদান করার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। সেবা নিতে আসা সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ ভূমি অফিসে এসে যখন বসার ব্যবস্থা না থাকায় তারা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন, এ দৃশ্যটি আমাকে মর্মাহত করে। কারণ এখানে অনেক বয়স্ক ব্যক্তিগন আবার মা বোনেরা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসেন, তারা বেশি সময় বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টের ব্যাপার।
মূলত এ বিষয়টা আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘ভূমিকুঞ্জ’ নাম দিয়ে ১টি ঘর নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করি। পরে খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘ভূমিকুঞ্জ’ ঘরের কাজ শেষ করি। এখানেবর্তমানে সাধারণ জনগন বসতে আর কোনো সমস্যা হয়না। ‘ভূমিকুঞ্জ’ স্বস্তির স্থানটি মুটামুটি যতটুকু সম্ভব হয়েছে তা দিয়ে সুন্দর করার চেষ্টা করেছি। সম্মানিত সাধারণ নাগরিকগনকে ‘ভূমিকুঞ্জ’ স্বস্তির স্থানে বসার সুযোগ করে দিতে পেরে অনেক ভালো লাগে। এখন আর নাগরিকদের বসার জন্য কোনো সমস্যা হয় না। আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করি সবসময় সম্মানিত নাগরিকবৃন্দের কাঙ্ক্ষিত সেবা দ্রুত সময়ের মধ্যে করে দিতে।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর