1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুরুতর আহত কুরিয়ারে পাঠানোর আগেই ধরা পড়ল ১ লাখ শলাকা অবৈধ সিগারেট শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ শ্রীমঙ্গলের ভুনবীরে শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১২ ফুটের অজগর, দেখতে ভিড় মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার

জৈন্তাপুরে একটি ক্রাশার মিল, চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

মুরাদ হাসান, জৈন্তাপুর, সিলেট:-
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪
  • ২৪৮ বার পঠিত
মুরাদ হাসান, জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ- পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের জন্য নিরীহ অসহায় মানুষের মানবেতর জনজীবন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিবেশের ধ্বংসাত্মক ভাবে রুপ ধারণ করছে এই শুকনো মৌসুমে। মাত্র ১টি ক্রাশার মিলের কারণে গোটা এলাকা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সর্ব মহল আর নিরব নয়, এ সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনতা।
জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের আলুবাগান মোকামবাড়ী এলাকায় বছর কয়েক পূর্বে স্থাপন করা হয়েছিলো মেসার্স মতিন কনস্ট্রাকশনের মালিকানাধীন মতিন স্টোন ক্রাশার মিল লিমিটেড নামে এই প্লান্ট।
শুরু থেকেই উক্ত ক্রাশার মিলটি আবাসিক এলাকার অতি নিকটে স্থাপন করা সত্ত্বেও ক্রাশিং এর সময় কোন পানির ব্যবহার করে না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মোকামবাড়ী আলুবাগান এলাকায় আবাসিক মহল্লা আলুবাগান, মাজহাঁটি, দাউদাটিল্লা এলাকার ঠিক প্রবেশমুখে ডাবল প্লান্টের এই বড় ক্রাশার মিলটি স্থাপন করা হয়েছে।
এ তিন চারটি মহল্লায় হিন্দু মুসলিম মিলিয়ে প্রায় ২৫০ টি পরিবার বসবাস করে। যে স্থানটিতে মিল স্থাপন করা হয়েছে তার ২০০ মিটারের ভিতরে অত্র এলাকার একমাত্র সনাতন মন্দির। যেখানে প্রতিদিন সকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রাক- প্রাথমিক স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়।
তাছাড়া ক্রাশার মিলটি স্বয়ংক্রীয় অটোলোডেড স্টিস্টেম হওয়ার ফেলুডার যন্ত্র দিয়ে বিশাল আকৃতির পাথর লোড করা হয়। এতে করে মধ্যরাতে বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকার চারপাশ।
এ বিষয়ে মোকামবাড়ী প্রাক- প্রাথমিক স্কুলের সনাতন ধর্মীয় শিক্ষিকা রিংকু রানী পাল বলেন-পূজা মন্ডপ কিছুটা নিচে হওয়ায় প্রতিদিন বৃষ্টি মত ধূলোবালি এসে মন্দিরে প্রবেশ করে। মিল মালিক কর্তৃপক্ষ একটুও পানি দেয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় গৃহিনী লাকি রানী পাল বলেন, আমার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী।bতারা ভোর থেকে রাত ৮ টার বেশী সময় পর্যন্ত এক লাগাতার মিল চালায়।ইতিমধ্যে আমার মেয়ের নিয়োমিত মাথা ব্যাথা সমস্যা লেগেই থাকে। তা ছাড়া অত্র মহল্লার অধিকাংশ শিশুরা শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের স্বীকার বলে তিনি জানান।
মোকামবাড়ী দূর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নিত্য লাল বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলায় বড় বড় দুইটি সমিতির অধীনে অনেক মিল চলে। আমরা দেখি প্রতিদিন সকালে মিল চালু করে সন্ধ্যা নামতেই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মতিন কনস্ট্রাকশনের এই মিলটি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। বরং অদৃশ্য কোন প্রভাব খাটিয়ে যেমন তেমন ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে তারা মিল চালায়। তিনি আরো বলেন, রাত নয়টা দশটার পর মিল বন্ধ হলেও ফেলুডার দিয়ে পাথর লোডিং চলে। যার ফলে গভীর রাত পর্যন্ত বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। তিনি জানান যে স্থানে মিলটি স্থাপন করা হয়েছে সেটা কথিত আছে সরকারি খাঁস ভূমি। এখানে কিভাবে এতবড় একটা মিল স্থাপন করা হলো জনমনে এখন সেই প্রশ্ন।
এ বিষয়ে মোকামবাড়ী আলুবাগান এলাকায় ভারতীয় চুনাপাথর আমদানি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী সৈয়দ শামীম আহমেদ বলেন, বার বার পানি দিয়ে মিল চালানোর কথা বললেও তারা এতে কোন কর্ণপাত করেন না। বরং অদৃশ্য কারণে গায়ের জোরে তারা পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে ভোর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মিল চালায়। বর্তমান আলুবাগান এলাকায় এই একটি মিলের কারণে আশপাশের বনের গাছপালা ধূলায় সাদা হয়ে গেছে। এক সময় এই এলাকাতে অনেকে পানের চাষ করতেন সেটাও বাদ দিয়ে দিয়েছে। অনেক সুপারী গাছ আছে ফুল আসার সাথে সাথে ডাষ্টের কারণে ফলন কমে গেছে।
তিনি আরো বলেন, এতোদিন তাদের প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে স্থানীয়রা চুপ থাকলেও এখন সোচ্চার হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা এখন তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে উক্ত স্থান হতে মতিন কনস্ট্রাকশনের এই মিলটি অপসারণের দাবী উঠেছে।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধে,আলুবাগান মহল্লার মানুষের শান্তিতে বসবাসের জন্য স্থানীয়দের গণস্বাক্ষর নিয়ে একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত মঙ্গলবার প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মতিন কনস্ট্রাকশন ক্রাশার মিলের ম্যানেজার মাকসুদুর রহমানের নিকট স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মালিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকায় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ক্রাশার মিলের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল ওয়াহিদের মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, মোকাম বাড়ী আলুবাগান এলাকার স্থানীয়দের একটা অভিযোগ তিনি হাতে পেয়েছি। এ বিষয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর