
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছুটি না নিয়েই দুদিন যাবত অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির খবর পেয়ে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
অনেক শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন- বার্ষিক পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে একটা দপ্তরের প্রধান দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তি বাড়িতে চলে যাওয়া আমরা শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য চরম হতাশাজনক। যা ইতোপূর্বে জামালগঞ্জে অন্তত বার্ষিক পরিক্ষার সময় কখনো ঘটেনি। জানযায়, শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জামালগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করার পর থেকেই অনিয়মিত অফিস করছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) তাঁর অফিসে হাজিরা দিয়েই চলে যান নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। পরে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে কাটালেও রবিবার অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্প্রতি একাধিক শিক্ষক বিভিন্ন মিটিংয়ে তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অনিয়মিত অফিস করার ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করলে স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীরা অফিসে গেলে এরকম অনুপস্থিতির চিত্র দেখতে পান। এছাড়াও চলমান বার্ষিক পরিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই দিন অফিসে অনুপস্থিত থাকার খবর জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক স্কুলের সচেতন অভিভাবকসহ বিভিন্ন লোকজন।
গত রবিবার সকাল ১১টা ও পূনরায় বিকেল ৩টায় অফিসে খোঁজ নিলে সহকারী দুই শিক্ষা কর্মকর্তা ও দাফতরিক অফিস কক্ষে সবাইকে উপস্থিত পেলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
সম্প্রতি এই শিক্ষা কর্মকর্তা যোগদান করার পরপরই বিভিন্ন মিটিংয়ে শিক্ষকদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করছে বলে নাম প্রকাশে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমদকে ফোন করলে তিনি জানান, আমার মা অসুস্থ। আমি বর্তমানে আমার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে অবস্থান করছি। ছুটি নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে ফোনে জানিয়ে আসছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছ থেকে জামালগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো ছুটি নেননি। তাছাড়া আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। আপনি জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে খোঁজ নিয়ে দেখেন তাঁর কাছে ছুটি নিয়েছে কি-না।
জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামানের কাছে ছুটি নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কিছু জানিনা। ডিপিইও স্যারকে জিজ্ঞেস করেন।