1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুরুতর আহত কুরিয়ারে পাঠানোর আগেই ধরা পড়ল ১ লাখ শলাকা অবৈধ সিগারেট শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ শ্রীমঙ্গলের ভুনবীরে শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১২ ফুটের অজগর, দেখতে ভিড় মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার

জৈন্তাপুরে পাথর কোয়ারীতে একাধিক বার অভিযান সত্ত্বেও থামছে না বালু পাথর লোট

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৪০ বার পঠিত

২০১৭ সালের পর থেকে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিগত ৭/৮ বছর যাবৎ ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা শ্রীপুর পাথর কোয়ারীতে সব ধরণের বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে সরকারি কাগজপত্রে।

বিক্ষিপ্তভাবে কিছু সংখ্যক শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন ও বিজিবির চোঁখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা হতে পাথর নিয়ে আসলেও তা পরিবহনের জন্য শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এলাকা থেকে বেশ খানিকটা দূরে পাথর ডাম্পিং করে পরিবহন করত। কিন্তু বিগত ৭ বছরে যেখানে কুয়ারী এলাকায় গাড়ী পাথর পরিবহনের জন্য নামতে সাহস পেতো না সম্প্রীতি সময়ে অদৃশ্য শক্তির কারনে মূল কোয়ারী এলাকায় সরাসরি গাড়ী নেমে পাথর বালু পরিবহনের প্রমাণ মিলেছে।
নতুন একটি সিন্ডিকেট চক্র তাদের পেশীশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন ও বিজিবির নাম ভাঙিয়ে গাড়ী প্রতি নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় বরং উপজেলা প্রশাসন ও একাধিক বার টাস্কফোর্সের অভিযান সত্ত্বেও জব্দকৃত পাথর ও বালু জোরপূর্বক কোয়ারীর ডাম্পিং এরিয়াতে গাড়ী নামিয়ে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে।

গত বুধবার (১১ই ডিসেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত পিলার ১২৭৯-১২৮০-১২৮১ মেইন পিলারের নিকটবর্তী এলাকা হইতে দিন দুপুরে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কয়েকশ শ্রমিক পাথর নিয়ে আসছে। বিগত কয়েক বছর যাবত অনুরূপ নিয়মে রাতের আঁধারে পাথর নৌকাযোগে বহন করে মূল কোয়ারী এলাকা হতে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে লোডিং করলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন সিন্ডিকেট চক্র মূল কোয়ারী এলাকায় পাথর ফেলে কোয়ারী এলাকায় গাড়ী নামিয়ে বিক্রি করে আসছে।

সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে কিছু শ্রমিকদের সাথে আলাপ কালে নতুন সিন্ডিকেট চক্রের কয়েকজন সদস্যদের নাম তালিকায় উঠে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেমার শ্রমিক জানান কয়েক সপ্তাহ যাবৎ কেন্দ্রী গ্রামে বাসিন্দা শামিম, গুচ্ছগ্রাম এলাকার সুমন মেম্বার, খারুবিল এলাকার নজির মিয়া ও ৪নং বাংলা বাজার এলাকার দিলদার হোসেন চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে নতুন করে কোন ব্যবসায়ী পাথর উত্তোলনের কাজে জড়িত হতে হলে ৫হাজার টাকা প্রাথমিক ভাবে সিন্ডিকেট চক্রটিকে দিতে হয়। আর প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট টাকা বিভিন্ন মাধ্যমের নামে উত্তোলন করা হয়।টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব সুমন মেম্বার ও জাকির হোসেন পালন করে থাকেন। এছাড়া এই সিন্ডিকেট চক্রের আরো সদস্যের মধ্যে নুর ইসলাম, আক্কাস আলি, বালফু সুমন ও মরমের নাম জড়িয়ে রয়েছে।

স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, গত অক্টোবর মাসে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও শ্রীপুর বিজিবি, মিনাটিলা বিজিবি যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে প্রায় পনের হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করে। সেই জব্দ হওয়া পাথরগুলো স্হানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে এই সিন্ডিকেট চক্রের পেশিশক্তির প্রভাবে জব্দকৃত পাথর গুলো অবাধে বিক্রি শুরু হয়। অবস্হাটা এমন যেন টাস্কফোর্সের অভিযান এলে কিছুক্ষণের জন্য সবাই সাধু সেজে গেলো পরে অভিযান শেষ হলে তারা স্বরূপে ফিরে আসেন।

জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি কোয়ারীতে মজুদ করে রাখা পাথর ও বালু জব্দ করে তার চারপাশে লাল নিশানা স্হাপন করা হয়েছিলো। সেই সাথে উক্ত স্হানে কি পরিমান পাথর জব্দ করা হয়েছে তার একটি আনুমানিক হিসাব করে রাখা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, শনিবার পুনরায় শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এলাকায় গিয়ে সরাসরি বালু লোডিং এর প্রমান পায় প্রশাসন। পরে একটি মামলা সহ দুই গাড়ী বালু জব্দ ও জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দকৃত পাথরগুলো প্রশাসন সরে যাবার পরে যারা বিক্রির সাথে জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। সেই সাথে চলতি মাসের তৃতীয় কিংবা শেষ সপ্তাহে জব্দ করা পাথর নিলামের ব্যবস্হা করা হবে বলেন। তাছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এলাকায় যারা পাথর উত্তোলনের কাজে জড়িতের প্রমান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের ও টাস্কফোর্সের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর