
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর থানার এসআই বিকাশ সরকারের বিরুদ্ধে মোঃ আজিম উদ্দিন (৩৫) নামের এক গ্রাম পুলিশকে চর, থাপ্পড় মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজিম উদ্দিন হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একই গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া ও নাজিম উদ্দিন স্থানীয় এলং বিলের মাছ শিকারে বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় মধন্যনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযোগের তদন্ত করতে যান মধ্যনগর থানার এসআই বিকাশ সরকার। পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অভিযোগের তদন্ত করতে হামিদপুর গ্রামে গিয়ে গ্রাম পুলিশ আজিম উদ্দিনকে মরিচ খেত থেকে ডেকে এনে তার উভয় গালে চর, থাপ্পড় মারার এই ঘটনা ঘটিয়েছেন মধ্যনগর থানার এসআই বিকাশ সরকার। তার কান ফুলে গেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য তার স্ত্রী সহ স্বজনরা পাশের নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আজিম উদ্দিনের স্ত্রী রোকিয়া আক্তার বলেন, আমি রইদের মাইজে কাহর শুকাইতা ছিলাম। এসময় দেহি যে পুলিশ স্যার আমার স্বামীকে চর, থাপ্পড় মারতা ছৈন আর কইতা ছৈন বেশি কথা কৈলে দইরা নিয়াম গা। পরে আমি আতপাওয়ো দইরা আমার স্বামীরে রাখছি। অহন তার কান ফুইল্যা গেছেগা। তারে হাসফাতাল নিতাছি। আমার স্বামী একজন গ্রাম পুলিশ। আমরা গরিব বইলা আমরার কি মান সম্মান নাই? আমি এর বিচার চাই।
মধ্যনগর থানার এসআই বিকাশ সরকার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় এলং বিলের মাছ শিকারে বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগের তদন্ত গিয়ে গ্রাম পুলিশ আজিম উদ্দিন কে জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে সে উল্টা আমার সাথে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে।
মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজীব রহমান বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে শোনেছি। খুবই খারাপ কাজ করেছেন, তিনি এমটা করতে পারেন না।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) উজ্জল রায় বলেন, ঘটনাটি আমি শোনেছি। গ্রাম পুলিশকে চিকিৎসা করানোর জন্য ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, এই বিষয়টি ওই গ্রাম চৌকিদার তার স্থানীয় কর্তপক্ষকে জানাক। আমরা পরে খুঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।