
ফাল্গুন মাস আসতে আরো সপ্তাহ উপরে বাকি থাকলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই লেগেছে ফাগুনের ছোঁয়া। বসন্তের নানা ফুলের সঙ্গে সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ ঘ্রাণ।
সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের মনকাড়া ঘ্রাণ মানুষের মনকে করছে বিমোহিত। গাছে গাছে মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে উপজেলার বিভিন্ন আম গাছে। বলা যায় মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মনকে করে তুলছে আরো প্রাণবন্ত। পাশাপাশি জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ প্রায় ৬টি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জের এলাকার অনেক বাড়ির আঙিনায়, পুকুর ধারে আম গাছে মুকুল ধরেছে।
গেল দুই সপ্তাহ থেকে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এবারের শীত মৌসুমে উপজেলায় অন্যান্য বছরের তুলনায় কম শীত ছিল। এছাড়া মাঘ মাস শেষের পথে। কিন্তু মাঘে এখনো মেঘের দেখা মিলেনি। তবে এ সময় শিলাবৃষ্টি হলে আমের মুকুলের ক্ষতি হবে। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবার আমের ভালো ফলন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, এ বছর আমের আগাম মুকুল ফুটেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমের মুকুলের পরিচর্যায় এভোমেট্রিন ও ছত্রাকনাশক মেনকোজেভ বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময় মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হবে বলে ধারণ করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ হলো গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পুরো গাছে সাইপারম্যাক্সিন ও কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিতে পারলে গাছে বাস করা হপার বা শোষকজাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যদি সঠিক সময়ে শোষকপোকা দমন করা না যায় তাহলে দেশীয় আমের ফলন কমে যেতে পারে।