1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুরুতর আহত কুরিয়ারে পাঠানোর আগেই ধরা পড়ল ১ লাখ শলাকা অবৈধ সিগারেট শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ শ্রীমঙ্গলের ভুনবীরে শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১২ ফুটের অজগর, দেখতে ভিড় মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার

ঢিলেঢালা ভাবে চলছে হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ, দুশ্চিন্তায় হাওরবাসীর

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৮৪ বার পঠিত

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ রোপন শেষ পর্যায়ে গেলেও হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ পর্যায়ে যেতে পারেনি পিআইসি কমিটির লোকজন। কিছু প্রকল্পে এখনো ঢিলেঢালা ভাবেই চলছে কাজ। এতে দুশ্চিন্তায় ভোগছেন হাওরের হাজারো কৃষক। কারণ হাওরের যে কোনো একটি বাঁধ দূর্বল ভাবে নির্মাণ হলে সম্পুর্ণ হাওরই ঝুঁকিতে পড়ে যায়। যদিও নীতিমালা অনুযায়ী গেল বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজের উদ্বোধন করেছে উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি। কিন্তু বাস্তবে উদ্বোধনের প্রায় ২ মাস হলেও এখনো অধিকাংশ বাঁধে ৬০ ভাগ কাজই বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি কৃষকদের। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি ৭০ ভাগ কাজ শেষ।

এদিকে যে বাঁধগুলোতে কাজ হয়েছে, তাতে অভিযোগ রয়েছে কিছু কিছু বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলনসহ অক্ষত বাঁধে ঘষামাজা দিয়ে কোনো রকম মাটি ফেলে কচ্ছপ গতিতে সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে। এতে করে একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল হাওরাঞ্চলের কৃষকগন রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। এছাড়াও সচেতন মহলে ক্ষোভ রয়েছে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারের বিপুল অর্থ তছরুপ করার প্রক্রিয়া করা হয়েছে।

গত দুই দিন উপজেলার একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের প্রায় ২ মাস হওয়ার পরও অনেক বাঁধেই সন্তোষজনক কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। একাধিক বাঁধে দেখা মেলেনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাউকে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি ৫শ টাকার পরিবর্তে প্রতি প্রকল্পের সাইনবোর্ড বাবদ খরচ নিয়েছেন ২ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ ৪০ টি পিআইসির সাইনবোর্ড বাবদ খরচ নেয়া হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রায় বাঁধে দৃশ্যমান নেই প্রকল্পের সাইনবোর্ড। তবে কিছু প্রকল্পে সাইনবোর্ড পাওয়া গেলেও একাধিক সাইনবোর্ডে পিআইসি কমিটির সভাপতির নাম ও মোবাইল নাম্বার লেখা ছিলো ভূল। এদিকে চলতি বছর উপজেলার পাগনা ও হালির হাওরসহ ছোট বড় ৭টি হাওরের মোট ৪০টি পিআইসির মধ্যে কিছু প্রকল্পে মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও একাধিক প্রকল্পে এখনো মাটির কাজই চলছে ধীরগতিতে।

এদিকে হালির হাওরের ১২নং প্রকল্পে নীতিমালা উপেক্ষা করে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে উপরে মাটির প্রলেপ দিয়ে ভেতরে দেয়া হয়েছে বালুমাটি। যা বৃষ্টি ও অকাল বন্যার পানির চাপে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। এই প্রকল্প কমিটির সভাপতি পিযুষ তালুকদারের কাছে বালু কেন দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ভূলবশত হয়ে গেছে। আমি এগুলো সরিয়ে এটেল মাটি দিয়ে পূনরায় বাঁধ বেঁধে দিবো।
১৭নং প্রকল্পে মাটি ফেলা হয়েছে, তবে তাতে বাঁধের ভেতরে বড় বড় মাটির চাকা রয়েছে। এগুলো ভেঙে না দেওয়াতে পানি লিক করে হাওরে প্রবেশ করার ঝুঁকি রয়েছে।

এছাড়াও হালির হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার গনিয়ারকাড়া প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও দুরমুজ, জিওটেক্স ও দূর্বাঘাস লাগানো বাকি রয়েছে। এই ক্লোজারটির পূর্ব পাড়ে গভীর ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ক্লোজার বাঁধ টেকসই রাখতে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মনে করছেন বাঁধ সংলগ্ন কৃষকগন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিক সময়ে প্রকল্পের অর্থ ছাড় না দেওয়াতে মাটি ফেলা বাঁধে মাটির কমপেকশন, দুরমুজ ও দূর্বাঘাস লাগাতে পারছেন না পিআইসি কমিটি। এব্যাপারে হালির হাওরের ২১নং পিআইসি কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমার প্রকল্পের বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত মাত্র পেয়েছি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার মত। তারপরও আমি মাটির কাজ শেষ করেছি। তাছাড়া সামনে দুরমুজ ও দূর্বাঘাসের অনেক কাজই বাকি রয়েছে। এখনো মাটি কাটার বেকু মেশিনের ৫ লক্ষ টাকা ঋণী আছি। অপরদিকে রফিকুল ইসলাম তালুকদারের ছোট ভাই একই হাওরের ১৪নং প্রকল্পের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার জানান, তার প্রকল্পে এখনো পুরোপুরি মাটি ফেলতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, আমার প্রকল্পের সাইডে মাটির নীচে বিভিন্ন গাছের গুঁড়ি থাকায় মাটির কাজ অনেক কষ্টকর। এছাড়াও অনেক দূর থেকে মাটি আনতে হয়। তবে আমি চেষ্টা করছি তাড়াতাড়ি মাটির কাজ শেষ করার। এছাড়াও আর্থিক সংকটে ভুগছি। আরেকটি বিল ছাড় দিলে হয়তো দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারবো।

এদিকে উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাগনার হাওরের বোগলাখালী (কাইল্ল্যানির খাল) ক্লোজার দ্রুত মাটির কাজ শেষ করলেও এখনো বাকি রয়েছে স্লোপ, বাঁশ, দুরমুজ ও জিওটেক্স সহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজ। সময় হাতে বাকি আছে আর মাত্র ১৮ দিন।পাগনার হাওরের আরেক কৃষক আলী হোসেন বলেন, প্রতি বছর হাওরের বাঁধ নিয়ে আমরা চিন্তায় থাকি। কোনো বছরই বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। ফলে প্রতি বছরই আগাম বন্যায় কোনো না কোনো হাওরের ধান নষ্ট হয়। তাছাড়া এবছর আমাদের পাগনার হাওর থেকে সঠিক সময়ে পানি নিস্কাশন না হওয়াতে বিপাকে রয়েছে শতশত কৃষক। এখনো রোপনে অনিশ্চয়তা রয়েছে আমাদের অনেক বোরো জমি।

জানাযায়, গত ২০১৭ সালের ফসলহানির পর থেকে প্রতি বছরের আগাম বন্যা থেকে হাওরের বোরো ধান রক্ষা জন্য ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে স্থানীয় কৃষকদের দিয়ে প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে নির্মাণ করা হয় ফসলরক্ষা বাঁধ। সংশোধিত নীতিমালায় ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর জামালগঞ্জের ৪০টি বাঁধ পূণঃনির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে কাজ শুরু হওয়ার পর গত প্রায় ২ মাসে একটি মাত্র বিল ছাড় দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা মুল বাজেটের ২০ থেকে ২২ শতাংশ মাত্র। যা বাস্তবায়নকৃত কাজের তুলনায় যতসামান্য। এতে পিআইসি কমিটির লোকজন বিভিন্ন ভাবে ধারদেনা করে হাওরের বাঁধ মেরামত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক প্রকল্পের লোকজন জানিয়েছেন।

জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পিআইসি মনিটরিং কমিটির গনমাধ্যম সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষকদের ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত মনিটরিং কমিটি ও পিআইসি কমিটি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, হালির হাওরের কিছু কিছু বাঁধ এখনো ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে। তাছাড়া যেভাবে মাটি ফেলা হচ্ছে এতে করে বাঁধ দূর্বল ও ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে আশংকা করছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের এই নেতা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ছোট-বড় ৭টি হাওরে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ৩৫ হাজার ৩৪২ জন কৃষক বোরো আবাদ চাষ করছেন। বোরো ফসল উৎপাদনে এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ দুই হাজার ৪৮৯ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৭২ কোটি টাকা।

এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি জানান, অধিকাংশ প্রকল্পে মাটির কাজ শেষ। কোনো কোনো প্রকল্পে দূর্বাঘাসও লাগানো হয়েছে।তবে আশা করছি খুব শীগ্রই দ্বিতীয় ধাপের বিল ছাড় হবে। সবমিলিয়ে কাজের অগ্রগতি ভালো।

জামালগঞ্জ উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর বলেন, হাওরের বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুত চলছে। প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ। বিলের ব্যাপারে জেলা মিটিংয়ে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত বিল দেয়া হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর