
সিলেটের ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট সড়ক। শহরে ঢুকার জন্য দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। প্রবাস থেকে আসা যাত্রীরা এ রুটে যাতায়াত করেন। বিকাল হলেই এ সড়কে ভিড় বাড়ে। গাড়ি নিয়ে চা বাগানে ঘুরতে যান অনেকেই।
গত কয়েকদিন ধরে সড়কে বিরাজ করছে আতঙ্ক। চিহ্নিত অপরাধীরা নানা সময় ঘটায় বিতর্কিত ঘটনা। ছিঁচকে অপরাধী ও ছিনতাইকারীরাও এ সড়কে সক্রিয় রয়েছে। সড়কে আছে মাদকসেবীদের আনাগোনাও। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় এই সড়কে হঠাৎ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। অভিযানের খবর তেমন প্রচার হয়নি। পুলিশের পাঠানো ম্যাসেজে কেবল সাংবাদিকরাই জানতেন এ খবর। ফলে সাংবাদিকরাও উপস্থিত হন ওখানে। এয়ারপোর্টের ঠিক পাশে চেকপোস্ট শুরুর আগে এ সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ব্যক্তিদের ছিল আধিক্য। অভিযানের শুরুতেই তল্লাশি শুরু হয়। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট থেকে আসা গাড়ি আটকিয়ে করা হয় তল্লাশি। যারা মোটরসাইকেল আরোহী তাদের কাগজপত্র দেখা হয়। এর মধ্যে আটকানো হয় এক তরুণকে। ওই তরুণ নিজেকে ছাত্র পরিচয় দেন। পরে তাকে তল্লাশি করে সঙ্গে মাদক পাওয়া যায়।
এ অভিযোগে তল্লাশিকালে আটক হন আরও কয়েকজন। পাশেই সালুটিকর। মাদকজোন হিসেবে পরিচিত। বিকেল হলেই সিলেটের যুবকরা মোটরসাইকেল কিংবা গাড়ি নিয়ে ছুটে যান সালুটিকরে। ওখানে ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে অনেকেই প্রকাশ্য মাদক সেবন করেন। কেউ কেউ আবার ওখান থেকে কিনে মাদক নিয়ে আসেন নগরে। ফলে তল্লাশিকালে ধরা পড়েন ওইসব মাদকসেবীদের কেউ কেউ। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ওই সড়কে যানবাহনে তল্লাশি। সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অভিযানের খবরে ছিঁচকে চোর, মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা এবং অপরাধীদের কাছে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাখানেকের অভিযানের পর এই সড়কে যানবাহন চলাচল কমে আসে।কেবলমাত্র যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল করে। অভিযানকালে ওই রুটে চলাচলকারী প্রায় সব যানবাহনেই তল্লাশি করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে অনেকেই চা বাগানের ভেতরের বিকল্প পথ ব্যবহার করে নগরে পৌঁছান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছে। সড়কে তল্লাশি ছাড়াও অপরাধী ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর এই অভিযান চলমান থাকবে। শুধু এই রুটে নয়, যখন যেখানে অভিযানের প্রয়োজন হবে সেখানেও চালানো হবে। অপরাধীরা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেজন্য এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, গত চারদিন ধরে সিলেটের অপরাধী ধরতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটের কোয়ারিতে বালু ও পাথর লুটপাটকারীদের রুখতে পুলিশের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে জাফলংসহ কয়েকটি কোয়ারিতে লুটপাটকারীরা পিছু হটেছে। কোম্পানীগঞ্জের ব্যাংকারসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো বোমা মেশিন চলছে। এসব পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সিলেটের বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এতে পলাতক থাকা আসামি ও সন্দেহভাজনরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ছাড়াও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিতভাবেই এসব অভিযান চলছে।
এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট অংশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যারাই সিলেট জেলার ভেতরে দুর্বৃত্তপনা ঘটাতে চাইবে জেলা পুলিশ তাদের প্রতিহত করবে বলে জানান তিনি। র্যান-৯’র পক্ষ থেকে অভিযান জোরদার শুরু করা হয়েছে। চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে র্যাবের পক্ষ থেকে অভিযান জোড়ালো করা হয়েছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকালে চারটার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এবং সিলেটের সর্বস্তরের ছাত্র জনতার ব্যানারে এই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি ছাড়াও সারা দেশে মা-বোনদের অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।