
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে ভারতীয় সুপারী বহনকারী একটি পিক-আপের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই যুবক।
শনিবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ৪ নম্বর বাংলা বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম সাইফুল ইসলাম (২২) ও সগির হোসেন (২৫)। তারা উভয়েই জৈন্তাপুরের ২ নম্বর লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা। সাইফুল স্থানীয় আব্দুল হান্নান ও সগির নজরুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দোকান বন্ধ করে সাইফুল তার সহপাঠী সগিরের ইজিবাইকে করে নিজ বাড়ির পথে ফিরছিলেন। বাংলা বাজার ব্রিজ অতিক্রম করার পরপরই পেছন দিক থেকে আসা একটি ডিআই পিক-আপ তাদের বাহনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পিকআপটিতে ভারতীয় সুপারী বোঝাই ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ধাক্কার পরপরই পিক-আপটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাইফুলের দুটি পা ভেঙে গেছে এবং সগিরের ডান হাত ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তারা সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ২ নম্বর লক্ষীপুর ইউপি সদস্য নজির আহমদ জানান, দুর্ঘটনা কবলিত পিক-আপটির মালিকানা সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি নিজপাট ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের মালিকানাধীন। তিনি আরও বলেন, “রাত গভীর হলেই তামাবিল মহাসড়কে চোরাই পণ্যের গাড়িগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল শুরু করে। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।”
এদিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আসা চোরাই পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে সাধারণ পথচারী ও যানবাহনচালকেরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়বে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।