জানা যায়, রোববার সকাল থেকে অবৈধ স্টোন ক্রাশার মিল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সিলেটের জেলা প্রশাসন। উচ্ছেদ অভিযানের শেষ দিকে বিকেল অনুমান সাড়ে ৪টার দিকে জাফলং স্টোন ক্রাশারের মালিক ময়নুল হক (৪৫) হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মিল মালিক অসুস্থ হয়ে পড়লে, পার্শ্ববর্তী মিলগুলোর মালিক ও শ্রমিকরা এ সময় উত্তেজিত হয়ে উঠে। তারা দলবদ্ধভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। তাদের পাথর নিক্ষেপের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের ২/১ জন নেতাদের ইন্ধন বা উস্কানি থাকতে পারে বলে অভিমত স্থানীয়দের। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করলে এর সত্যতা বের হয়ে আসবে বলে অভিমত তাদের।
প্রশাসনের উপর হামলার ঘটনার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. দিলোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম সিলেটের সাথে আলাপকালে বলেন, এই হামলার ঘটনায় আমি মর্মাহত। আমি আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এ ধরনের ঘটনা এর আগে কখনো এই এলাকায় ঘটেনি, আমার এলাকার পাথর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অনেক শান্তিপ্রিয়। ধুপাগুলে গড়ে উঠা ক্রাশার মিলগুলোর মালিক বেশিরভাগ বহিরাগত। তাদের জন্য এ ঘটনা ঘটেছে। আমি এ ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছি এই ঘটনা বহিরাগত ক্রাশার মিল মালিক ও তাদের শ্রমিকরা ঘটিয়েছে। বহিরাগত কিছু সংখ্যক পাথর মিল মালিকরা তাদের প্রায় অর্ধশত শ্রমিক নিয়ে প্রশাসনের উপর হামলা চালায়।
বহিরাগত যারা এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাই। পাশাপাশি এলাকার কেউ যদি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত পূর্বক তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আহবান জানাই। আমার এলাকায় নিরপরাধ কোন সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানীর স্বীকার না হয়, সেদিকে নজর রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও জামায়াত নেতা নাজিম উদ্দিন ইমরান বলেন, এ ঘটনা বহিরাগত পাথর মিলের মালিকরা ঘটিয়েছে। এখানে স্থানীয় কেউ প্রশাসনের উপর হামলা করেনি, “দিনভর অভিযানে স্থানীয় কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু বিকেলে অভিযানের শেষ দিকে বহিরাগত কয়েকজন পাথর মিলের মালিক ও তাদের অর্ধশতাধিক শ্রমিক একত্রিত হয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়, যা নিন্দনীয়। আমি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ প্রশাসনের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ হামলায় নেতৃত্ব দেন আদিব স্টোন ক্রাশারের সুজন, ফাইভ স্টার স্টোন ক্রাশারের মামুন আহমদ, এম আর স্টোন ক্রাশারের সুমন আহমদ, সুন্দরবন স্টোন ক্রাশারের শহীদ মোল্লা, হাসান স্টোন ক্রাশারের জিয়া উদ্দিন, ফরাজি স্টোন ক্রাশারের হাবিব, নিউ এম আর স্টোন ক্রাশারের সাগর আহমদ, শিলং স্টোন ক্রাশারের মাসুক আহমদ, ফ্রেনন্স স্টোন ক্রাশারের রাসেল আহমদ, রৌশন স্টোন ক্রাশারের গুপি বাবু, নরসিংদী স্টোন ক্রাশারের ফরহাদ উদ্দিন, মাহিন, সোহেল সাপ্লাইয়ার সহ অত্র স্টোন ক্রাশার মিলের লেবার, মালিকসহ কমপক্ষে ৫০/৬০ জন হামলাকারী প্রশাসনের উপর হামলা চালায়।