
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একযোগে ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশ-ইন করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ মে) গভীর রাত থেকে বুধবার (২৯ মে) ভোর পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। পুশইনকৃত ব্যক্তিদের সীমান্তবর্তী মিনাটিলা, শ্রীপুর ও ঘিলাতৈল এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
৪৮ বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ শ্রীপুর বিওপি’র সদস্যরা জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলের সামনে থেকে পাঁচটি পরিবারের মোট ৩২ জনকে আটক করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ১৫ জন শিশু।আটককৃতদের বাড়ি কুড়িগ্রাম, যশোর ও বাগেরহাট জেলায়।
অন্যদিকে, মিনাটিলা বিওপি’র আওতাধীন ঝিংগাবাড়ি এলাকা থেকে ছয়টি পরিবারের ২০ জনকে আটক করে বিজিবি। তাদের মধ্যে রয়েছে ৬ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৭ জন শিশু। এদের সকলেই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
এছাড়া ১৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের রাজবাড়ী বিওপি সূত্র জানায়, একই দিন ভোর ৬টার দিকে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২৮৬ নম্বর ঘিলাতৈল সীমান্ত দিয়ে আরও ১৪ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করে বিএসএফ। বিজিবির টহল দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এদের মধ্যেও রয়েছে ৫ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ৪ জন শিশু, এবং সকলেই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, “আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখান থেকে বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আটকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এবং টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সীমান্তে পুশইন ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।