
দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমা, যাদুকাটা, পাটলাই, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরের পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাশাপাশি দিনভর কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি টানা বৃষ্টিপাত আবার কখনো ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলাজুড়ে। এর ফলে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষজন।
খুব বেশী প্রয়োজন হলে বের হচ্ছেন। না হলে ঘরেই অবস্থান করছে সবাই।
শুক্রবার (৩০ মে) সকালে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১০ মিলিমিটার আর ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বিগত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ২১৭ মি.মি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পাউবো।
জেলার যাদুকাটা নদীর পাড়ের লাউড়েরগড় গ্রাম এলাকার বাসিন্দা বিল্লাহ মিয়া জানান, যাদুকাটা নদী দিয়ে মেঘালয় থেকে পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে নামতেছে। নদীর পানি লাউড়েরগড় বাজারের কাছাকাছি চলে আসতেছে। নদীতে সকল নৌকা বাধা আছে। আবহাওয়ার যে অবস্থা কিচ্ছু বুঝা যাচ্ছে না।
তবে পানি বাড়বে।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা সাজিদ মিয়া জানান, আমাদের এলাকায় গত দু দিন ধরেই প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। হালকা বাতাস আছে। পাহাড়ি ঢলের পানি পাটলাই নদী দিয়ে নামছে। আর হাওরগুলোতে পানি প্রবেশ করছে।
যদি মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির পরিমাণ অতিরিক্ত হয় তাহলে বন্যা হতে পারে।
জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা খরচার হাওর পাড়ের বাসিন্দা জহির আহমেদ জানান, এই সময়টায় পানি হাওরের কানায় কানায় ভরে যাওয়ার কথা, এ বছর পানি দেরিতে আসায় বন্যার আশঙ্কা করছি না। তবে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হাওরের পানি বাড়ছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বেশি নামলে আমরা দুর্ভোগে পড়ি, বন্যা হয়। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে পানি বাড়ছে একটু আতঙ্কে আছি। ঘর থেকে বের হতে পারছি না বৃষ্টির জন্য।
আগামী ২-৩ দিন সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বন্যার কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। তিনি আরো জানিয়েছেন,বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়লেও পানি এখনো বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, গত দু’দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে একেই সাথে পাহাড়ি ঢলের পানিও আসছে। এতে করে আমরা সর্তক অবস্থানে আছি। যদি বন্যা হয় সে আশঙ্কায় বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলার প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।