
সিলেটের সর্ববৃহৎ তামাবিল স্থলবন্দরে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। অসাধু কিছু কাস্টমস কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য এবং সিএনএফ এজেন্টদের যোগসাজশে এ চক্র ফুলেফেঁপে উঠলেও, ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভারতীয় পাথরবাহী প্রতিটি ট্রাক থেকে কারপার্স বাবদ বন্দর কর্তৃপক্ষ ৭০ টাকা এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে। এর বাইরে অতিরিক্ত পণ্যের ট্যাক্স হিসেবে প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ টাকা করে আদায় করছেন কিছু লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন সিএনএফ এজেন্ট, যাদের মধ্যে রয়েছেন রফিক সরকার, রফিক আহমদ, সালমান হোসেন ও মাসুম আহমদ।
এছাড়া বিধি অনুযায়ী পণ্য খালাসের পর কমপক্ষে ৩০% খালি গাড়ির ওজন নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও, তামাবিল বন্দরে খালি গাড়ির প্রকৃত ওজন না মেপে গড় ৯ টন ধরে হিসাব করা হচ্ছে। বাস্তবে অনেক খালি ট্রাকের ওজন ৭.৫ থেকে ৮ টনের মধ্যে হলেও এই কৃত্রিম হিসাবের ফলে সরকারের বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন ৪০০-৪৫০টি পাথরবাহী ট্রাক তামাবিল বন্দরে প্রবেশ করে। কারপার্সের বাইরে অতিরিক্ত ট্যাক্স বাবদ প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রায় ৯৭০ টাকা করে আদায় হলেও এর পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। বন্দর, কাস্টমস ও সিএনএফ এজেন্টদের মধ্যে ভাগাভাগি হয় এই টাকা। তাদের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা, মাসে ২-৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তামাবিলের অন্তত ২০-২৫ জন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এই অনিয়মের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিভাগীয় তদন্ত করলে- নদীর স্বচ্ছ জলের মতো বেরিয়ে আসবে তামাবিল বন্দরের রাজস্ব ফাঁকির চিত্র।
এ বিষয়ে তামাবিল কাস্টমসের সুপার ইয়াকুব জাহিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৭০ বা ৩০০ টাকা হারে কিংবা অতিরিক্ত ৯৭০ টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রতিটি গাড়ির ওজন নেওয়া হয়। এসব তথ্য ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
তামাবিল পোর্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এমন কিছু বন্দরে হচ্ছে না। গাড়ির ওজন ব্যবসায়ী, পোর্ট ও কাস্টমসের সমন্বয়ে করা হয়। প্রতিদিন ওজন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, “আমার পোর্টে এ ধরনের কিছু হচ্ছে না। তবুও খোঁজ নিচ্ছি। কাস্টমসের বিষয়টি কাস্টমস কমিশনার, সিলেটের সাথে আলোচনা করতে হবে।