মো. আব্দুল হাদী, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:-সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইয়ুব উল্লাহ'র মৃত্যু বরন করায়। ব্যাংকে তার নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টে নগদ টাকা জমা থাকায়, সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইয়ুব উল্লার আত্মীয় দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। আইয়ুব উল্লার পরিবারের কাউকে ব্যাংকে নমিনি না দিয়ে দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়কে ব্যাংকে নমিনি করেন। ব্যাংক গ্রাহকের মৃত্যু হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান কর্তৃক মৃত ব্যক্তির পরিবারের বাইরের লোককে মৃত্যু সনদ প্রদান করায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষ স্থানীয় বুরুঙ্গাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও জনতা ব্যাংকের বুরুঙ্গাবাজার শাখায় টাকার প্রাপ্তির দাবী জানাচ্ছেন। বিষয়টি...
মো. আব্দুল হাদী, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:-সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইয়ুব উল্লাহ’র মৃত্যু বরন করায়। ব্যাংকে তার নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টে নগদ টাকা জমা থাকায়, সেই টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইয়ুব উল্লার আত্মীয় দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। আইয়ুব উল্লার পরিবারের কাউকে ব্যাংকে নমিনি না দিয়ে দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়কে ব্যাংকে নমিনি করেন।
ব্যাংক গ্রাহকের মৃত্যু হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান কর্তৃক মৃত ব্যক্তির পরিবারের বাইরের লোককে মৃত্যু সনদ প্রদান করায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
উভয় পক্ষ স্থানীয় বুরুঙ্গাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও জনতা ব্যাংকের বুরুঙ্গাবাজার শাখায় টাকার প্রাপ্তির দাবী জানাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজ নগর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইয়ুব উল্লাহ জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গা বাজার শাখায় তার নিজ নামে একটি একাউন্ট খোলেন। এই একাউন্টে তিনি নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের মিনার হোসেন এর স্ত্রী সুলতানা হোসেন কে নমিনি করেন।
চলতি বছরের ১০ জুন তিনি মৃত্যুেবরণ করলে তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা উত্তোলনের দাবী নিয়ে ব্যাংকে যান নমিনি সুলতানা হোসেন।
এসময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের মৃত্যু সনদ নিয়ে আসতে বলেন। তখন সুলতানা হোসেন বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে মৃত্যু সনদের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পর মৃত্যু সনদ উত্তোলন করে ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের জন্য সুলতানা হোসেন কার্যক্রম শুরু করেন।
ইতোমধ্যে বিষয়টি মৃত আইয়ুব উল্লাহর ভাগনা মো. হেলাল জানতে পেরে নমিনিকে টাকা প্রদান না করে আইয়ুব উল্লাহর উত্তরাধীকারীদের টাকা দিতে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসনাতকে বলেন। কিন্তু ব্যবস্থাপক একাউন্টে দেওয়া নমিনিকে টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
বিষয়টি আইয়ুব উল্লার পরিবার ও আত্মীয়রা জানতে পেরে রবিবার (৭ সেপ্টেম্ভর) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়দের নিয়ে জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গা বাজার শাখায় গিয়ে গ্রাহকের প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের টাকা প্রদানের জন্য দাবী জানান।
এরপর দুপুর ১টার দিকে তারা বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছাড়া ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের জন্য দূরসম্পর্কের আত্মীয় সুলতানা হোসেনকে আইয়ুব উল্লাহর মৃত্যু সনদ কিভাবে প্রদান করা হলো তা জানতে চাইলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রঙ্গেশ কুমার দাশ চেয়ারম্যান ছাড়া প্রকৃত ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি।
এ ঘটনায় মরহুম আইয়ুব উল্লাহর ভাগনা মো. হেলাল বলেন, আমার মামা মারা গেলে ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করতে আমি মৃত্যু সনদ নিতে ইউপি অফিসে আসি। তখন ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, জন্ম সনদ নিয়ে আসতে। আমি জন্ম সনদ নিয়ে আসার আগেই ইউপি সদস্য জনিক লাল দেবের মাধ্যমে দূরসম্পর্কের আত্মীয় সুলতানা হোসেন কে মৃত্যু সনদ দিয়ে দেন। আমার মামার ওয়ারিশান জীবিত আছেন।মৃত সনদটি পরিবারের কাউকে না দিয়ে অসাধু উপায়ে দেওয়া হয়েছে বলে আমি মমে করি।
নমিনি দাবীদার সুলতানা হোসেন বলেন, আমার স্বামী বিদেশ থেকে পিন নাম্বারে টাকা পাঠালে আমি ব্যাংকে যাই। সেখানে আইয়ুব আলী ভাই একটি একাউন্ট করলে আমাকে নমিনি দিয়ে দেন। মারা যাওয়ার আগে তিনি বলে গেছেন আমি ব্যাংকের টাকা তুলে নেওয়ার জন্য। এর আগেও তিনি আমাকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জনিক লাল দেব বলেন, মৃত্যু সনদ আমি দেইনি, চেয়ারম্যান দিয়েছেন। এখন শুনছি তাদের টাকা নিয়ে কি সমস্যা আছে।
শালিস ব্যক্তিত্ব হাফেজ সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রকৃত উত্তরাধিকারের কাছে মৃত্যু সনদ না দিয়ে অন্য একজনকে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে। চেয়ারম্যানের উচিত ছিল মৃতের প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের হাতে মৃত্যু সনদ তোলে দেওয়া। আমরা ব্যাংক ব্যবস্থাপককে বলেছি বিশৃংখলা এড়াতে আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের টাকা প্রদান করতে।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি বুরুঙ্গাবাজার শাখার ব্যবস্থাপক আবুল হাছনাত বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ দাবী জানিয়েছেন। আইন অনুযায়ী প্রকৃত দাবীদারকে টাকা প্রদান করা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।