
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো একটি জমি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অগ্রগতি এলেও, শনিবার (৪ অক্টোবর) পরিমাপ কার্যক্রমকে ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের নেতৃত্বে সরেজমিনে পরিমাপের সময় দ্বিতীয় পক্ষের বাধা এবং স্থানীয় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অপপ্রচারের ঘটনায় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনওর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, আদালতের নির্দেশে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর আওতায় নির্ধারিত নিয়মে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বহু সালিশ হলেও কোনো সমাধান না আসায়, মীর মো. মাসুক মিয়া ছাতক ইউএনও কার্যালয়ে ২৪ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ৩ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। শুনানির সময় শাহরিয়ার তারেক ও মনু মিয়া এক মাস সময় প্রার্থনা করেন। তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর হলে ৪ অক্টোবর জায়গাটি পরিমাপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঘোষিত সময় অনুযায়ী ৪ অক্টোবর সকাল ১১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতে পরিমাপ কাজ শুরু হয়। তবে, দ্বিতীয় পক্ষের নেতা শাহরিয়ার তারেকের নেতৃত্বে একদল লোক পরিমাপ বন্ধের চেষ্টা করে। সবচেয়ে বিতর্কিত ও নিন্দনীয় ঘটনাটি ঘটে, যখন স্থানীয় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উসকানিমূলক প্রচার চালানো হয়। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন, মসজিদের মাইকের মতো পবিত্র মাধ্যমকে ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ইসলাম ও সামাজিক শৃঙ্খলা উভয়েরই পরিপন্থী।
এ বিষয়ে বাদী মীর মাসুক মিয়া দাবি করেন, “আমার মৌরশি সম্পত্তিতে আমি ও আমার পরিবার জন্মলগ্ন থেকে ভোগদখল করে আসছি। দ্বিতীয় পক্ষ শুধু আমার জায়গাই নয়, সরকারি জমিও দখলের চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিনের ব্যর্থ সালিশি প্রচেষ্টার পর বাধ্য হয়ে আইনের শরণাপন্ন হয়েছি, তবু গায়ের জোরে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “বিধি মোতাবেক নির্ধারিত নিয়মে পরিমাপ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ভূমি পরিমাপকালে উভয় পক্ষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পাশাপাশি নালিশি সম্পত্তিতে খাস জমিও পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”