
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে প্রচার প্রচারনা। দেশের রাজনীতিতে সংস্কার হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের ব্যানার ফেস্টুনের ব্যাপারে কি কোন সংস্কার করা হয়েছে বা করা হবে তা জানা যায়নি। সেই আগের মতোই গাছের ডালে , বাড়ির সীমানা প্রাচীরে , দোকানের দেয়ালে যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে ফেস্টুন জুলাচ্ছে। বাদ যাচ্ছেনা সরকারি টয়লেটের দেয়ালও।
রাজনীতিতে নেতা হওয়ার অন্যতম কৌশল হলো , প্রার্থীর পক্ষে নিজের ছবি সংযুক্ত করে প্রচার প্রচারনার ব্যানার ফেস্টুন যত্রতত্র টানানো। এখানে নিয়ম নীতির কোন বালাই নেই। প্রার্থীর ছবির চাইতে প্রচারকারীর ছবি থাকে বড়। কারো দৃষ্টি পড়লে মনে হয় যে প্রচার করছে সে নিজেই প্রার্থী। ফেস্টুনে প্রার্থী ছাড়াও দলের বড় নেতাদের ছবি লাগানো থাকে যা দৃষ্টি গোচর হয়না।
প্রার্থীর অনুমতি সাপেক্ষে কি ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হয় , না যে যার ইচ্ছে অনুযায়ি লাগাতে পারে এ প্রশ্নটিও ঘোরপাক খাচ্ছে জনমনে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র লাগিয়ে দেয় ফেস্টুন। যার টাকা আছে সে ব্যানার এবং ফেস্টুন দিয়ে দলের ভেতর জায়গা করে নেয়। যারা দলের জন্য নিবেদিত থাকে তারা সূ-সময়ে চিটকে পড়ে। এরকম মন্তব্য রয়েছে কিছু রাজনীতিবিদদের।
রাজনীতি যারা করে তাদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ। কেননা একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে যারা রাজনীতি করেন তাদের নাম থাকে তালিকাবদ্ধ। বাকি যারা থাকেন তারা হচ্ছেন ভোটার। তাই রাজনীতিবিদদের চাইতে ভোটারের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু নির্বাচন এলে দেখা যায় ,টাকা ওয়ালা ভোটার ফেস্টুন লাগিয়ে হয়ে যান বড় নেতা।
সংস্কার হলে সব জায়গায় সংস্কার হওয়ার প্রয়োজন, কেবল প্রার্থীর প্রচার প্রচারনা হোক। কিন্তু প্রার্থীকে নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করে। ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে রাস্তা-ঘাট ,হাট-বাজার, কারো বাড়ির দেয়াল ইত্যাদি অন্ধকার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি যেন কেউ না করে। নেতা হতে হলে ভোটারের কাছে গিয়ে ভোট চেয়ে নেতা হওয়াই উত্তম।