
নতুন সংযোগ,”সবার জন্য বাংলাদেশ ,তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্টানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সবাই মিলে দেশেকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। বর্তমান সরকারের একটাই কাজ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। এজন্য দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তিনি উপস্থিত জনতার উদেশ্যে বলেন- ‘এই ভাইয়েরা -আপনারা কি চান? বিএনপি যে কাজগুলি করছে, এই কাজগুলি আগামী ৫ বছর অব্যাহত থাকুক’? আপনারা কি চান দেশের সকল মায়ের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেই? এসময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে সমস্বরে সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংসদে বাজেটে নূন্যতম স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা যাতে স্কুল কলেজে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে- তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনেকে বলেছে সেই বাজেট না-কি তারা মানে না। বাজেটে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, কৃষকদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি, মায়েদের ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রেখেছি, স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী মানুষর জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি সেই বাজেট না-কি চানাচুরের মতো’।
তিনি বলেন, এই বাজেট জনগণের বাজেট। যে বাজেটে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরির্তন করতে চাই সেই বাজেটকে তারা গণবিরোধী বাজেট বলে!’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এই যে আমরা মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি, ৬০টি নিত্যপন্যের উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নিয়েছি- তারা এর বিরোধীতা করলে আমরা তা কন্টিনিউ করতে পারবো না। দেশের মিল কারাখানা রক্ষায়, দেশের বেকার ছেলেমেয়েরা যাতে চাকরির সুযোগ পায় সেজন্য দেশে উৎপাদন হয় এমন পন্য বিদেশ থেকে আমাদানী করতে বাজেটে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আমি নতুন একটি কথা যোগ করতে চাই আপনারা সবাই বলেন,”সবার জন্য বাংলাদেশ ,তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্টান
১৭ জুন, (বুধবার) দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল মাঠে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের উপকারভোগীদের মাঝে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি গরীব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমনন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম বিএনপি ১২ তারিখের নির্বাচনে সরকার গঠন করলে পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে নারী পরিবারের প্রধানদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। আমরা নির্বাচনের সাথে সাথে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। তিনি বলেন, যারা আজ কার্ড পয়েছেন- প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের কাছে ফ্যমিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি বলেন ,পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। এজন্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।
ইতোমধ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দির-গির্জার ধর্মীয় প্রধান, পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানি চালু করা হয়েছে। বেকার যুবককদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে শিল্প-কারখানাসহ নানা কর্মসংস্থান তৈরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণ আমাদের সাথে থাকলে অপপ্রচারকারী-ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারবে না। আমরা যেকোনো মুল্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব-ইনশাআল্লাহ।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধানন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ তেলওয়াত করে মির্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। প্রাথমিক ভাবে
১শ’ ৫৫ পরিবারের মধ্যে ১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। এর আওতায় পরিবারগুলো মাসিক ২ হাজার ৫শ’ টাকার আর্থিক সুবিধা ভোগ করবেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিয়াস, ষ্ট্রোক প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থেলাসিয়াসে আক্রান্ত ৫ জনকে প্রতিজনে ৫০ হাজার, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা নৃ জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে ৫ জনকে ১০ হাজার করে, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা নৃ জনগোষ্ঠীর ৫ শিক্ষার্থীকে প্রতিজনে ১০ হাজার, চা শ্রমিকদের টেকসই আবাসন নির্মানে ৫ জনকে প্রতিজনে ২ লাখ করে এবং দুঃস্থ অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন বিশেষ অনুদানের আওতায় ১শ’ জনকে প্রতিজনে ১০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন।