
আজমিরীগঞ্জ সদরে লঞ্চ টার্মিনাল সড়কের সরকারি জমি মাপজোকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। অন্যদিকে দখলদারদের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের | তোড়জোড়ে স্থানীয়রা ব্যক্ত করছেনক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।
জানা যায়, টার্মিনাল সড়কে ৩৪ দাগে ৮ একর ১২ শতক জমির মধ্যে ১ একর ৮২ শতক সরকারি খাস খতিয়ানের জমির বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় একব্যক্তির বিরুদ্ধে সেই জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠলে গত ১৫ জুলাই স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয় এবং সীমানা নির্ধারণে মাপজোকের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন।
কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় একমাস অতিবাহিত হতে চললেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয়রা জানান, সরকারিভাবে জমি মাপজোক করে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওই ব্যক্তি বন্ধ থাকা কাজ পুনরায় শুরু করেছেন। চলছে প্রথম তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি। ভবনটির মালিক সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামের ইসমাইল মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা আলিম হোসেন বলেন, সরকারি জায়গা নিয়ে মাপজোকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কিন্তু এখনো মাপজোক করা হয়নি। এর মধ্যে ভবনের নির্মাণকাজ এগিয়ে গেলে পরে সরকারি জমি চিহ্নিত করতে সমস্যা হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি সরকারি ভূমি নির্ধারণের জন্য মাপজোকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এক ব্যক্তি জানিয়েছেন ওই জায়গার উপর মামলা রয়েছে।বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাসুদ রানা জানান ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। পুনরায় নির্মাণ কাজ চালানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য, আসলেই যদি মামলা চলমান থাকে তাহলে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চালানো কতটা আইনসম্মত, সেটিও প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিৎ। মাপজোক করে সরকারি জায়গা চিহ্নিত এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি সপ্তাহে একদিন, প্রতি বৃহস্পতিবার আজমিরীগঞ্জে থাকেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত অবগত নই। খোঁজ নিয়ে দেখব।