
সুনামগঞ্জের অন্যতম বালুমহাল ধোপাজান-চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ যোগ দেন।
বক্তারা জানান, ইজারা না হলেও ড্রেজার দিয়ে ধোডাজান নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ এ নদীতে বালু উত্তোলন নিষেধ। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এনসিপি জেলা শাখা কমিটির সহ-সমন্বয়ক আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সাকিব, জুলাই যোদ্ধা জহুর আলী, ছাত্রশক্তি আহবায়ক এনডি ওসমান গনী প্রমুখ।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাজুড়ে ধোপাজান-চলতি নদীর অবস্থান। ভারত থেকে নেমে আসা এই নদী মিশেছে সুরমা নদীতে। ২০১৮ সাল থেকে এ নদীর ইজারা বন্ধ আছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছে বিভিন্ন চক্র। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে বালু লুট শুরু হলে কয়েক কোটি টাকার বালু লুট হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এখনো নানাভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। গত মাসে সেখান থেকে ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। ওই প্রতিষ্ঠান সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চলমান কাজে এই বালু ব্যবহার করবে বলে জানানো হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সুনামগঞ্জে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন আবারও বালু লুটের আশঙ্কা করেন। এই নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং বালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের দাবিতে ১৭ সেপ্টেম্বর চারটি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ১৭ ব্যক্তিতে চিঠি দেয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। বালু উত্তোলনের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।