
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুলে ছাবাহী ক্বোরআন শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক ১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সনের ৩য় কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ৪টায় চিকনাগুল বাজারস্থ আল মাসিম মার্কেট হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বোর্ডের কার্যকরী কমিটির সভাপতি মাওলানা হিফজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু বক্কর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলজার আহমেদ হেলাল বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষা শিশুদের নৈতিকতা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ প্রতিটি মুসলিম শিশুর জন্য অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ছাবাহী ক্বোরআন শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বেলাল, চিকনাগুল শাহী ঈদগাহের ইমাম ও খতিব মাওলানা কারী আব্দুর রউফ, জৈন্তাপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজওয়ান করিম সাব্বির, সাংবাদিক মুরাদ হাসান, জাহিদুল ইসলাম, সুয়েব রানা, জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসাতুল উলুম দারুল হাদীস হরিপুর বাজারের শিক্ষক আলহাজ ফরিদ উদ্দিন রাজাগঞ্জী, বোর্ডের উপদেষ্টা মাওলানা সালিক আহমদ ও আব্দুস সালাম প্রমূখ।
চিকনাগুল ইউনিয়নের ৪৮টি মসজিদ মক্তবের মধ্যে ৩২টি মক্তবের শিক্ষার্থীরা বোর্ডের ৩য় কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে টি-শার্ট ও হিজাব বিতরণ করা হয়।
মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় ২১ জন শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন কারী মাওলানা আব্দুর রউফ।