1. admin@dailyprothomsylhet.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গুরুতর আহত কুরিয়ারে পাঠানোর আগেই ধরা পড়ল ১ লাখ শলাকা অবৈধ সিগারেট শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ শ্রীমঙ্গলের ভুনবীরে শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনায় ১২ ফুটের অজগর, দেখতে ভিড় মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক লাখাইয়ে নির্মাণাধীন মসজিদে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু শান্তিগঞ্জে ঐতিহাসিক নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে তবলীগ জামাতের মুসল্লীদের নগদ অর্থ ও মোবাইল চুরি-থানায় অভিযোগ দায়ের শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সাপ দেখে আতঙ্ক, পরে উদ্ধার

একতার প্রতিচ্ছবি তিনপাড়া গ্রাম

মুরাদ হাসান, জৈন্তাপুর
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫
  • ৩৬০ বার পঠিত

বাংলার মাটি, জলবায়ু, প্রকৃতি আর সংস্কৃতির সুমিষ্ট সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এক ঐতিহ্যমণ্ডিত জনপদের নাম হেমু তিনপাড়া। তিনটি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রাম হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসের এক অনন্য স্বাক্ষর। এখানকার মাটি কেবল বসবাসের উপযুক্ত ভূমি নয়, এটি অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

হেমু তিনপাড়ার কেন্দ্রস্থলে একসময় প্রতি শুক্রবার বাদ জুম্মা বসতো পঞ্চায়েতের মিলনমেলা। এই সাপ্তাহিক সভা ছিল শুধু সামাজিক বিচার ব্যবস্থার একটি মাধ্যম নয়, বরং ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও সহযোগিতার প্রতীক। গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করত, ঐতিহ্যবাহী রীতি ও প্রথা বজায় রেখে সমাজকে সুসংগঠিত রাখত। শতাব্দীর প্রাচীন এই সামাজিক কাঠামো যুগ যুগ ধরে গ্রামের শান্তি ও সমৃদ্ধির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে।

হেমু তিনপাড়ার শিক্ষাব্যবস্থা ছিল এক সময় গোত্রভিত্তিক সভ্যতার অংশ। ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সংমিশ্রণে বিদ্যানিকেতন গড়ে ওঠে এখানে, যেখানে শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ধর্মচর্চা, নৈতিকতা ও জীবনমুখী শিক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটত। সময়ের পরিক্রমায় শহর ও বাণিজ্যকেন্দ্রের প্রসার ঘটলেও, গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থা এক সময় ধরে রেখেছিল তার গৌরবময় অবস্থান।

এই গ্রাম শুধু সাধারণ মানুষের বসতি ছিল না, বরং এখানে বসবাস করতেন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। পাকিস্তান আমলের খান আব্দুল করিম, পীর মুফশ্বীল আলী, চৌধুরী বীরাম মাহিন-এর মতো বীরপুরুষেরা এই ভূমিতে জন্ম নিয়েছিলেন, যাঁদের নামে আজও গল্প-গাথা রচিত হয়। জমিদারী প্রথার ছাপ থাকা এই অঞ্চলে সামাজিক নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের এক দৃঢ় ধারা বজায় ছিল, যা কালের বিবর্তনে অনেকটাই ম্লান হয়ে এসেছে।

একসময়, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সংহতির এক মজবুত দুর্গ ছিল হেমু তিনপাড়া। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্যের অনেক কিছুই বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও নগরায়নের জোয়ারে অনেকেই দেশ-বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, ফলে ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছে। বিশেষত, ২০১০ সালে সংঘটিত রাজনৈতিক সংঘাত এই অঞ্চলের সামাজিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছিল, যার রেশ আজও অনুভূত হয়।

তবে, ইতিহাস সাক্ষী যে, সামাজিক ঐক্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোনো সমাজ সহজে বিলুপ্ত হয় না। হেমু তিনপাড়ার মানুষ আজও বিশ্বাস করে, একদিন সেই পুরনো দিনের গৌরবময় ঐতিহ্য পুনর্জাগরিত হবে। শিক্ষা, শান্তি ও সংস্কৃতির আলোয় আবারো আলোকিত হবে প্রতিটি গৃহকোণ।

হেমু তিনপাড়া শুধুমাত্র একটি গ্রাম নয়, এটি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আধুনিকতার রূপান্তর ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মাঝেও যদি গ্রামের মানুষ ঐতিহ্যের শেঁকড়কে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে, তবে একদিন নিশ্চয়ই হারিয়ে যাওয়া সোনালি অধ্যায় নতুন করে উন্মোচিত হবে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে, হেমু তিনপাড়া তার ঐতিহ্য ও একতাবদ্ধ সমাজব্যবস্থার জন্য যুগ যুগ ধরে স্বমহিমায় উজ্জ্বল থেকেছে—ভবিষ্যতেও থাকবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর