সিলেটে বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খু-ন
স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫
৮১৫
বার পঠিত
সিলেটে বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খু-ন
সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের লুসাইন গ্রামে বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে আপন ছোট ভাইয়ের আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মো. মুজিবুর রহমান (৪৮) তিনি এয়ারপোর্ট থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের লুসাইন গ্রামের মৃত মনো মিয়ার ছেলে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) বেলা অনুমান সাড়ে ১২ টার দিকে ঘটনাটি নিহত মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ঘটে। এ খুনের মূল হোতা মুহিবুর রহমান ময়বুর সোদি আরব প্রবাসী। সূত্র জানায়, নিহত মুজিবুর রহমানের সাথে তার পরিবারের ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিলো। এই ভূমি বিরোধের মধ্যেও নতুন করে সৃষ্টি হয় পরিবারের একটি বাল্য বিবাহের বিষয়। মূলত নিহত মুজিবুর রহমানের...
সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের লুসাইন গ্রামে বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে আপন ছোট ভাইয়ের আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. মুজিবুর রহমান (৪৮) তিনি এয়ারপোর্ট থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের লুসাইন গ্রামের মৃত মনো মিয়ার ছেলে।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) বেলা অনুমান সাড়ে ১২ টার দিকে ঘটনাটি নিহত মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ঘটে। এ খুনের মূল হোতা মুহিবুর রহমান ময়বুর সোদি আরব প্রবাসী।
সূত্র জানায়, নিহত মুজিবুর রহমানের সাথে তার পরিবারের ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিলো। এই ভূমি বিরোধের মধ্যেও নতুন করে সৃষ্টি হয় পরিবারের একটি বাল্য বিবাহের বিষয়। মূলত নিহত মুজিবুর রহমানের ভাতিজীকে বাল্য বিবাহ দেওয়া নিয়ে তাদের পারিবারিক সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে। নিহত মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই মৃত ছাইফুর রহমানের এক মেয়েকে বাল্যবিবাহ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
সূত্র আরো জানায়, নিহত মুজিবুর রহমানের যে ভাতিজীকে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়েছে, সেই ভাতিজীকে তিনি লালন-পালন করে বড় করেছেন, তার ছোট ভাই ছাইফুর রহমান বিগত ১০ বছর আগে সৌদিআরবে রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। তারপর হইতে নিহত মুজিবুর রহমান তার ভাইয়ের মেয়ের ভরনপোষণের দ্বায়িত্ব নেন।
জানা যায়, আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার সময় বাল্যবিবাহের বিষয় নিয়ে নিহত মুজিবুর রহমানের বাড়িতে তাহার ছোট ভাই মুহিবুর রহমান ময়বুর এসে হামলা চালায়। এসময় মুহিবুর রহমান ময়বুর, তার মাতা, ছাইফুর রহমানের স্ত্রী ও ময়বুর রহমানের স্ত্রী সরাসরি এ ঘটনায় অংশ নেন। এ সময় আহত মুজিবুর রহমানকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাদের হামলায় নিহত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী ছকিনা বেগম গুরুতর আহত হন। মাত্র ৫দিন আগে নিহত মুজিবুর রহমানের স্ত্রী অপারেশন সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তার স্ত্রীকেও হামলাকারীরা ধাক্কা দিলে তাহার স্ত্রীর সেলাই ফেটে যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
হতাহতের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সাথে সাথে ছুটে যান খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. দিলোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন, এবং দুই পক্ষের সাথে কথা বলেন। পরবর্তীতে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহত মুজিবুর রহমানের সর্বশেষ ঘটনার খোঁজ খবর নেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আহবান জানান।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, বর্তমানে এই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা ময়বুরকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।