
সুনামগঞ্জের ছাতকে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এক ভুক্তভোগি নারী। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামের সাজু মিয়ার স্ত্রী মিনু বেগম সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, ছাতক থানাধীন জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম ও এএসআই রিপন আহমদ।
জানাযায়, উপজেলার মঈনপুর মৌজার ৩৫৭ নং খতিয়ানের ৪২৬২ নং দাগের ১শতক ও একই মৌজার ৩৩১নং খতিয়ানের ৪২৬৬নং দাগের ৩.৩৩শতক ভূমি মৌরশী স্বত্ব ভোগ দখল করে আসছেন মিনু বেগমরা। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ ভূমিতে জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় একই গ্রামের মৃত তাজয় এর ছেলে শানুর, চাদনুর, নুর আলী ও নয়ন। এতে বাঁধা নিষেধ করলে অভিযুক্তরা প্রাণে মারার হুমকি দেয়। পরে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাজু মিয়ার স্ত্রী মিনু বেগম। পুলিশ সুপার বরাবরে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দিলে এখানের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম ও এএসআই রিপন আহমদ তদন্তের নামে ৩হাজার এবং গত ৭ মার্চ ঘটনাস্থলে তদন্ত শেষে আরও ৪হাজার টাকাসহ মোট ৭হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযোগকারীর কাছ থেকে। বিরোধের বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য ইনচার্জ গত ২৫ এপ্রিল জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ডাকেন। সেখানে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নেতাসহ প্রতিপক্ষের লোকজনকে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে বসেছেন ইনচার্জ। অভিযোগকারী পুলিশের কাছে বিরোধের নিস্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লিখিত অভিযোগটি বৈঠকে সকলের সম্মুখে ছিড়ে ফেলেন ইনচার্জ নাজমুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ ছিড়া ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও তার কার্যালয়ে বৈঠক বসার কথা স্বীকার করেছেন। অপর অভিযুক্ত এএসআই রিপন তিনিও টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তদন্তের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও লিখিত অভিযোগ ছিড়ে ফেলার বিষয়ে কোন কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, ফাঁড়ির পুলিশ ও অভিযোগকারী তাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায় নি।