
আগামী ১০ ডিসেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা সিবিএ নির্বাচনে নিজের ছোট ভাই হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন। প্রতিদ্বন্দী প্রাথীদের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর এবার মামলায় ঢুকিয়ে গতকাল রাতে দুইজনকে গ্রেফতার করানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় কর্মরত হারুনুর রশিদ হারুন ও শ্রমিকদল নেতা আরিফ আহমদ। গোলাগঞ্জ উপজেলার ফুলসাইন্দ গ্রামের মাসুম আহমদ বাদি হয়ে গত বুধবার সিলেট কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় আটক দেখিয়ে হারুন ও আরিফকে শুক্রবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা এলাকায় ক্ষোভ, উত্তেজনা ও আতংক দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতা এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর ঘনিষ্টজন হওয়ায় তার সমর্থন নিয়ে সিলেট জেলা বারের বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীদের পাশ কাটিয়ে নিজে পিপি হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট এটিএম ফয়েজকে পিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে রিপনের নেতৃত্বে সিলেট আদালত পাড়ায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়, যা ছিল নজিরবিহীন। এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের ছোট ভাই হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপনকে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা সিবিএ এর সাধারণ সম্পাদক বানাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। সম্প্রতি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহিদুজ্জামান চৌধুরী সুফিকে সাথে নিয়ে রিপন ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। এতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীরও মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, সারকারখানায় কর্মরত বৃহত্তর বগুড়া ও ঢাকার শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে সিলেটে ডেকে এনে দফায় দফায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, ওহিদুজ্জামান চৌধুরী সুফি ও হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপন গংরা প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপনকে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় বিজয়ী করতে চাপ দেন। অন্যথায় নির্বাচনে অংশগ্রহনকারীদের ৫-৭টি মামলায় ঢুকিয়ে জেল কাঠানোর হুমকি দেন তারা। সর্বশেষ ১১ অক্টোবর সিলেটে তলব করে তাদেরকে শাসানো হয়। এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলসাইন্দ গ্রামের মাসুম আহমদ বাদী করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বরখাস্ত মেয়র আনোয়ারুজ্জামানকে প্রধান আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় সুকৌশলে হারুন ও আরিফের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয় বলে জানান মামলার বাদি মাসুম আহমদ। গ্রেফতারকৃত নাটোর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন ১৭নং ও শ্রমিকদল নেতা আরিফ আহমদকে ১৮নং আসামী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় নিজের ছোট ভাইকে সিবিএ নির্বাচনে বিজয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠার পেছনে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিগত ১৬ বছরে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় হরিলুট করে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তাদের একজন হচ্ছেন রিপন ও শিপনের মামা কামাল আহমদ। পতিত স্বেরাচারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও হাবিবুর রহমান হাবিবের ডান হাত ও ক্যাসিয়ার ছিলেন কামাল আহমদ। আর এভাবেই একজন সাধারণ লাইব্রেরী ব্যবসায়ী থেকে কামাল বনে যান শতকোটি টাকার মালিক। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর সারকারখানা লুটপাটের অনেকেই গা ঢাকা দিলেও চাদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা রিপন ও শিপনের মামা পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বনে যান সিলেট জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ঘনিষ্টজন। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে গ্যাসে সিলিন্ডার সহ বিভিন্ন কাজের কমিশন হিসেবে মাসোয়ারা লক্ষ লক্ষ টাকা যাচ্ছে শীর্ষ ঐ বিএনপির নেতার পকেটে। যে টাকা আগে মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও হাবিবুর রহমান হাবিবকে মাসোয়ারা হিসেবে দিতো কামাল। গ্যাস সিলিন্ডার সহ সারকারখার ব্যবসা বানিজ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মামা কামালের পরামর্শে সিবিএ নেতৃত্ব নিজেদের পকেটে নিতেই আপন ছোট ভাই হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি শীর্ষ নেতা।
উল্লেখ্য যে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে একতরফা ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা সিবিএ’র সবকটি কমিটিতে হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপন নিজের জায়গা করে নেয় আওয়ামী নেতৃত্বের সাথে সখ্যতার বিনিময়ে।
হারুনের মুক্তির দাবি নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের হারুনকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করেছেন নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমদ রনি। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মিথ্যা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।