
বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্য সচেতন। বিশেষ করে নিজেকে ফিট রাখার ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় একটু বেশিই দৃষ্টি থাকে। আর এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খাবারের তেল। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষরা রাইস ব্র্যান অয়েল ব্যবহার করেন খাবারে। এমনকি ভাজাপোড়ায়ও ব্যবহার করে থাকেন এ তেল।
রাইস ব্র্যান অয়েলকে স্বাস্থ্যসম্মত মনে করা হলেও এ নিয়ে অনেকেরই আবার প্রশ্ন রয়েছে। এ তেল আদৌ শরীরের জন্য উপকারী, না ক্ষতি করে থাকে? আবার কারও প্রশ্ন, রিফাইন তেলও স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ কিনা? রাইস ব্র্যান অয়েল নিয়ে যখন এমন নানা প্রশ্ন, তখন এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার। এবার তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।
রাইস ব্র্যান অয়েল কী ভালো: এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী বলেন, অনেকেই মনে করেন রাইস ব্র্যান অয়েল বোধহয় শরীরের জন্য ভালো নয়। আসলে এই ধারণা মোটেও ঠিক নয়। এই তেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আবার অন্যসব তেলের তুলনায় এর দামও কিছুটা কম। এ কারণে মানুষ অনায়াসেই কিনতে পারেন রাইস ব্র্যান অয়েল। আর সুস্থ থাকতে এ তেল নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে: শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল বৃদ্ধি পেলেই যত সমস্যা। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর অন্দরে এই উপাদান জমা হতে পারে। এ কারণে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল অনেক সময় ব্যাহত হয়। যা থেকে হার্ট অ্যাটাকের মতো অসুখও হয়ে থাকে। আর হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ এই অসুখের ঝুঁকি কমাতে যেভাবেই হোক কোলেস্টেরল কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে রাইস ব্র্যান অয়েল।
অরিজ্যানলের গুণাগুণ: রাইস ব্র্যান অয়েলে অরিজ্যানল নামক একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। যা শরীরে উপস্থিত কিছু উৎসেচকের কাজে বাধা প্রদান করে প্রদাহ বাড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে হার্টের রক্তনালীর প্রদাহ বৃদ্ধিসহ উৎসেচকগুলোকে কাজ করতে দেয় না। এ কারণে হার্টের সমস্যা এড়িয়ে চলা যায়। একইসঙ্গে অন্যান্য জটিল রোগ থেকেও দূরে থাকা যায়।
ক্যানসার থেকেও দূরে থাকা সম্ভব: ক্যানসারকে বলা হয় মরণব্যাধি রোগ। আর এই রোগের ফাঁদে পড়লে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়। জীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ। এ জন্য যেভাবেই হোক ক্যানসারের ঝুঁকি এড়িয়ে চলা উচিত। এ সমস্যা থেকে টোকোট্রাইয়েনলস নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সহায়ক হতে পারে। এ উপাদানের গুণে ক্যানসারের ঝুঁকি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। বিশেষ করে ব্রেস্ট, লাংস, লিভার ও ব্রেন ক্যানসার দূরে থাকে। আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরানোতেও ভূমিকা রাখে রাইস ব্র্যান অয়েল।
কী পরিমাণ খাবেন: একজন সুস্থ মানুষের দিনে ৩ থেকে ৪ চামচ পরিমাণের বেশি তেল খাওয়া ঠিক নয়। আর এই নিয়মে চললে রোগব্যাধি দূরে থাকবে। তবে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, প্রেশার বা অন্য কোনো ক্রনিক অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ তেল খাওয়া ঠিক হবে না। উপকারের আশায় একই ধরনের তেল বারবার না খেয়ে অন্যান্য তেল মিশিয়ে খেতে পারেন। অর্থাৎ, রাইস ব্র্যানের পাশাপাশি সয়াবিন ও সরিষার তেলও খেতে পারেন।