
সিলেটের নয়নাভিরাম খাদিম পামওয়েল বাগানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্যাসিফিক ক্লাব অব বাংলাদেশের আয়োজনে বহুল প্রতীক্ষিত বনভোজন-২০২৫। ‘সমবেত হই, আনন্দ ভাগাভাগি করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (১২ এপ্রিল) ক্লাবের সদস্য, তাদের পরিবার ও অতিথিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি হারুনুর রশিদ হারুন এবং পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুশ শাকুর, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক সিটি প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নুল হক, ক্লাবের জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, বিশিষ্ট পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখরা।
সকাল ৯টা থেকেই অতিথিদের আগমন শুরু হয়। বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নির্মল পরিবেশ ও পাখির কূজন যেন বনভোজনের আমেজকে আরও রঙিন করে তোলে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।
বিভিন্ন ইভেন্টে খেলাধুলার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন হয়েছে। দুপুরে পরিবেশিত হয় বৈচিত্র্যময় মধ্যাহ্নভোজ। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে ছিল মুখরোচক বিভিন্ন পদ, যা অতিথিদের প্রশংসা কুড়ায়। দুপুরের খাওয়া শেষে বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
ক্লাব সভাপতি হারুনুর রশিদ হারুনসহ অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
দিনের শেষ অংশে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই পর্বে গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য এবং নাটিকা পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় উপস্থিত সবাই।
ক্লাবের তরুণ সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পরিবেশকে করে তোলে আরও আনন্দময়।
সমাপনী বক্তব্যে ক্লাব সভাপতি বলেন, “প্যাসিফিক ক্লাব কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি পরিবার। এই ধরনের আয়োজন আমাদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।” তিনি ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সম্পাদক আব্দুশ শাকুর জানান, “ক্লাবের প্রত্যেক সদস্যের আন্তরিক পরিশ্রম ও সহযোগিতায় এ আয়োজন সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
সারাদিনের হাসি, আনন্দ, ক্রীড়া আর সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে শেষ হয় প্যাসিফিক ক্লাব অব বাংলাদেশের বনভোজন-২০২৫। অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন প্রাণবন্ত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।