
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক প্লট ও স্থাপনা। তবে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না করায় বিগত তিন বছর ধরে ওই এলাকার অন্তত ২০টি পরিবার চরম জলাবদ্ধতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১০টি প্লটে মাটি ফেলে উঁচু করে গড়ে তোলা হয়েছে ভবনের ভিত্তি, কিন্তু ড্রেইনেজ ব্যবস্থা গড়ে না তোলায় বর্ষাকালে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ। জলাবদ্ধতায় পুকুরের মাছ, গবাদিপশু, ফলজ ও বনজ গাছ, এমনকি ছোট ছোট চারাগাছ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানিতে ছড়াচ্ছে মশা-মাছি ও বিভিন্ন রোগজীবাণু, যার ফলে বাড়ছে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে রোগবালাই।
ভুক্তভোগী আলকাস মিয়া জানান, “বর্ষাকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা থাকে না। ভারী বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনের জায়গা না থাকায় আমরা পুরোপুরি পানি বন্দী হয়ে পড়ি। পরিবার নিয়ে দুঃসহ অবস্থায় থাকতে হয়।”
এলাকার প্রবীণরা জানান, আগে এসব জায়গা দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে পানির ঝর্ণা প্রবাহিত হতো, যা বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের মূল পথ ছিল। কিন্তু এখন সেসব ঝর্ণা পথ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে অট্টালিকা ও নানা ধরণের প্লট। তারা বলেন, “এসব জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ড্রেইন তৈরি করলে এমন দুর্ভোগ হতো না।”
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ—সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজ আব্দুল মুছাব্বির ফরিদ, বর্তমান ইউপি সদস্য অহিদুর রহমান ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী—বিষয়টি জানার পর বহুবার প্লট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু তাতেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এতদিন এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করে আইনি পথে না গিয়ে ধৈর্য ধরেছেন। কিন্তু এবার তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশাবাদী, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।