
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সড়কের নিচে পাইপ বসানোর উদ্যোগ নিতে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ একটি সড়ক ধসে পড়েছে। এতে দুই জেলার শতাধিক গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
রোববার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের লক্ষীপুর মাঝহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোড়াকরি বাজার থেকে লক্ষীপুর ও সুবিদপুরের দিকে যাওয়া এই সড়ক ব্যবহার করেন লাখাই উপজেলার পাশাপাশি মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রামের মানুষ। সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে মহল্লাবাসী খাইরুল ও ফারুক মিয়ার উদ্যোগে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য হিরা মিয়ার পরামর্শে সড়কের নিচ দিয়ে পাইপ স্থাপন করা হয়। কিন্তু প্রবল পানির চাপে রাস্তার একাংশ ভেঙে পড়ে যায়।
ফলে মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্রলি ও পণ্যবাহী ছোট ট্রাক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিয়ে, অসুস্থ রোগী পরিবহন, বাজারজাত পণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে বিঘ্ন ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বাহার উদ্দিন বলেন, “এই সড়কটি লাখাই থেকে হবিগঞ্জ সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। সড়ক ধসে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও যাতায়াতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হিরা মিয়া বলেন, “আমি কাজ চলার সময় উপস্থিত ছিলাম না। তবে এলাকাবাসীকে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন আপাতত একটি বাঁশের সাকো তৈরি করে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।”
মোড়াকরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোল্লা ফয়সল বলেন, “মহল্লাবাসী আমার অনুমতি না নিয়েই রাস্তার নিচে পাইপ বসাতে গিয়ে ছিদ্র করেছে। তারা বুঝতে পারেনি এতে এত বড় ক্ষতি হতে পারে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
তবে লাখাই উপজেলার ইউএনও অনুপম দাস অনুপের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডির লাখাই উপজেলা প্রকৌশলী এহতেশামুর হক বলেন, “রাস্তা কাটা বেআইনি। যারা এই কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ ছাড়াই তারা কাজটি করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সড়কটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”