
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননাকারী পাপন চন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা তাবলীগ জামাতের আমির ও তরুণ আলেম মাওলানা শেখ মুনতাসির আলম সোহানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম জনতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের নন্দি পাড়া গ্রামের এক সৎ ও সম্মানিত পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা পিতার নাম শেখ সাজ্জাদ মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। শৈশব থেকেই ইসলামী শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগী সোহান চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও দাওয়াহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
দাওয়াতি কাজে নিবেদিত থেকে তিনি ধীরে ধীরে তাবলীগ জামাতের নেতৃত্বে আসীন হন এবং বর্তমানে বানিয়াচং উপজেলায় আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে তাবলীগের কার্যক্রমে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়েছে—গ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসা, হাট-বাজার থেকে শুরু করে সর্বত্রই ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে পড়ছে।
শুধু ধর্মীয় অঙ্গনেই নয়, সমাজ সংস্কারেও তিনি একজন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বানিয়াচংয়ে বিভিন্ন ওরুসে অশ্লীল নৃত্য ও অশালীন গানের আয়োজনের বিরোধিতা করে তিনি বহুবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আলেম-উলামা, তরুণ সমাজ ও স্থানীয় মুরুব্বিদের ঐক্যবদ্ধ করে এসব অনৈতিক আয়োজন বন্ধ করতে সফল হয়েছেন। পাশাপাশি মাদকবিরোধী প্রচারণা, কিশোর অপরাধ দমন, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ঈদগাহ সংরক্ষণেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।
সম্প্রতি পাপন চন্দ্র গোপের অবমাননাকর বক্তব্যের ঘটনায় তিনি শুধু বিচারের দাবিই জানাননি; বরং পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়ে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ থাকে, সে জন্য আন্তরিকভাবে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেছেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর প্রচেষ্টা সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রিয় এ তরুণ আলেমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হচ্ছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় মুরুব্বি আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, “মাওলানা মুনতাসির আলম সোহান কেবল একজন আলেম নন, তিনি বানিয়াচংয়ের নৈতিক দিশারী। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী জলিল মিয়া বলেন, “আমরা দেখেছি, সোহান সাহেব সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে এলাকার মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পথে আহ্বান করেন। তিনি ঈমান ও আমল থেকে দূরে থাকা ব্যক্তিদের বুঝিয়ে শুনিয়ে তাবলীগ জামাতে যাওয়ার জন্য আকৃষ্ট করেন। তিনি তরুণ সমাজকে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে রাতদিন কাজ করেন। তাঁর মতো সৎ আলেমকে নিয়ে অপপ্রচার মানে আসলে ইসলাম ও মানবতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।”