
“সন্তানই প্রকৃত সম্পদ—তাদের নিয়মিত শিক্ষালয়ে পাঠান ও নজরদারিতে রাখুন। মাদকমুক্ত ও সু-শিক্ষায় পরিবারকে আলোকিত করুন।” — এই মহৎ আহ্বানটিই এখন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মমিন।
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন জনসেবায় নিয়োজিত এই গুণী ব্যক্তিত্ব বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি এবং উত্তরা কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম.ডি)। তিনি বিশ্বাস করেন—একটি শিক্ষিত প্রজন্মই জাতির আসল সম্পদ। আর সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের পাশে থেকে।
বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্গত যাত্রাপাশা (বড় বাড়ি) গ্রামের এই কৃতিসন্তান শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত মাদ্রাসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন, তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করেন। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“আপনার সন্তান যেন নিয়মিত স্কুলে যায়, তার পড়াশোনায় আগ্রহ থাকে—এটাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।”
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি শিক্ষক সমাজের প্রতিও আহ্বান জানান আরও সহানুভূতিশীল ও স্নেহময় আচরণের।
তাঁর একটি মানবিক বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে—“শিক্ষালয়ে যাবার পথে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
এমন চিন্তাশীল উদ্যোগ কেবল শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, সমাজে সহমর্মিতা ও ঐক্যের চেতনাও জাগ্রত করছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি যুব সমাজকে আহ্বান জানান জ্ঞান, ধৈর্য্য, বিশ্বাস, হাসি ও ঈমানের শক্তিকে জীবনের অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতে। তাঁর মতে,
“জ্ঞান, ধৈর্য্য, বিশ্বাস, হাসি ও ইমান—এই পাঁচটি শক্তিই জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”
আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মমিনের এমন প্রচেষ্টা আজ হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে নতুন উদ্যমে। তাঁর স্বপ্ন—একটি শিক্ষিত, সচেতন ও নৈতিক সমাজ, যেখানে প্রতিটি সন্তান হবে আলোর পথযাত্রী।