
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা দীর্ঘ সতের বছর ছিলেন সরব । কিন্তু ২০২৪ এর আগস্টে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারা নীরব হয়ে পড়েছেন। দলের দীর্ঘ শাসনামলে উপজেলা জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন দলের নেতা কর্মীরা।
বিশেষ করে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধূরী এবং ওসমানীনগরের বাসিন্দা যুক্তরাজ্যে আ’লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধূরী। সময় সুযোগে রাজনীতির মাটে থাকলেও তারা এখন বাস করছেন যুক্তরাজ্যে। তাদের সাথে প্রবাসী রাজনীতিবিদরাও চলে গেছেন সেখানে।বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশীয রাজনীতিতে নেতাকর্মীরা নীরব থাকলেও যুক্তরাজ্যে তথা অন্যান্য দেশে রয়েছেন সরব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানানোর পাশাপাশি দিচ্ছেন নানা উস্কানি।
উপজেলা চেয়ারম্যান ,ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রভাব খাটিয়ে কেউ হয়েছেন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবার ইউপি সদস্যও ছিলেন দলীও। শিক্ষা প্রতিষ্টান , হাট বাজার সব জায়গার গুরুত্ব পূর্ণ পদে ছিলেন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা। প্রবাস থেকে এসে যারা ক্ষমতার আসন দখল করেছিলেন তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন আর দেশে যারা আছেন তারা দিয়েছেন গা ঢাকা।
দলের কোন কার্যক্রম চলছে কিনা কিংবা কবে ফীরবেন কি শেখ হাসিনা ? এরকম প্রশ্নের কোন উত্তর নেই উপজেলা জুড়ে থাকা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী কারো কাছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে বসবাস করে ভার্চুয়ালে ভিডিও এডিটিং করে লাগিয়ে উস্কানি দিচ্ছেন কেউ কেউ। অন্যান্য ধর্মলম্বী যারা দলের দায়িত্বে ছিলেন তারা এখন রাজনীতি বাদ দিয়ে ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাজ্যে থেকে এক আওয়ামীলীগ নেতা জানান , শেখ হাসিনা দেশে ফীরবেন। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সকলেই রয়েছে রাজনীতি থেকে দূরে। সময় হলে সকলেই একত্রিত হয়ে দলের জন্য কাজ করবেন।
বিএনপি-জামাত সহ অন্যান্য নেতা কর্মীরা নির্বাচনি সভা সমাবেশে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিচ্ছেন , ওসমানীনগরে আওয়ামীলীগ আর কখনো রাজনীতিতে আসার সুযোগ নেই।তারা মানুষের সাথে যত জুলুম অত্যাচর, এবং লুটপাট করেছে তার বিচার হওয়া জরুরি। এখানে কোনদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি চলবে না।