
সিলেট সীমান্তের দুই কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় সংঘটিত পৃথক দুটি ঘটনায় গুলিবর্ষণে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলেও তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫) সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দমদমিয়া ও কালাইরাগ সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১১টা টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দমদমিয়া এলাকার সীমান্ত পিলার ১২৬০ এর ৪ এস উপ-পিলারের কাছ দিয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে আনুমানিক এক থেকে দুই কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে রাজন টিলা এলাকায় প্রবেশ করেন। জানা গেছে, তারা সুপারি চুরির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সুপারি বাগানের মালিক ভারতীয় নাগরিক খাসিয়া নিজের সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টাকালে ছড়রা বন্দুক থেকে গুলি ছোড়েন। এতে মো. আশিকুর রহমান (২২), পিতা মো. বোরহান, বাড়ি পূর্ব তুরং গ্রাম, ডাকঘর চড়ারবাজার, থানা কোম্পানীগঞ্জ, জেলা সিলেট গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা মরদেহটি বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে।
একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ ও উৎমা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে শূন্য লাইন অতিক্রম করে প্রায় এক কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে মৌপতি গ্রামের একটি সুপারি বাগানে প্রবেশ করেন। সেখানেও বাগানের মালিক ভারতীয় খাসিয়া নাগরিক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে উভয় ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ইয়াকুব উদ্দিনকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি থানায় নিয়ে যায়। অপর আহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে নয়, বরং এর অনেক আগ থেকেই কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সীমান্ত দিয়ে যেন কেউ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার রেখেছে। ঘটনার পরও বিজিবি তাদের পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করেছে।
এ বিষয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, বিজিবি দেশের সীমান্তের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত আইন অমান্য করে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এ ধরনের ঘটনা তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, বিজিবি বারবার সীমান্তবাসী ও সাধারণ মানুষকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি আইন, নিয়ম ও আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।