
ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষক গড়ে তোলার লক্ষ্যে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে শিক্ষকদের জন্য আয়োজিত ১৫ দিনব্যাপী ‘Basic ICT Training for Teachers (Batch-2)’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হলরুমে উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন (UITRCE)-এর উদ্যোগে এই সমাপনী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার এইচ এম ওমর ফারুক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষকই আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষ অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মোফাজ্জল হোসেন, ক্রিপেন্দ্র দাশ, আইয়ুব আলী, মিঠন চন্দ্র দাস ও আব্দুল মান্নান চোকদার। তাঁরা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ করে ডিজিটাল শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রশিক্ষক আব্দুল মান্নান চোকদার, যিনি তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে পুরো আয়োজনকে আরও হৃদয়গ্রাহী করে তোলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া এই ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সফলভাবে সমাপ্ত হয়। এতে বানিয়াচং উপজেলার বিভিন্ন দাখিল মাদ্রাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের মোট ২৪ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রস্তুতসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ৫০ নম্বরের এমসিকিউ ও ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং দক্ষতার ভিত্তিতে প্রত্যেককে গ্রেড প্রদান করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট, মার্কশিট ও সম্মানী (অনারিয়াম) তুলে দেওয়া হয়। বিদায় মুহূর্তে প্রশিক্ষণার্থীদের চোখেমুখে ছিল অর্জনের তৃপ্তি, কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতার আবেগ।
বক্তারা বলেন, এই প্রশিক্ষণ শুধু আইসিটি দক্ষতা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধন ও ভালোবাসার এক অনন্য অধ্যায়। একে অপরকে শেখাতে সহায়তা করা, সকালের চা-নাস্তার টেবিলে ভাগ করে নেওয়া নানা স্মৃতি, হাসি-ঠাট্টা ও প্রাণখোলা আড্ডা—সব মিলিয়ে এই ১৫ দিন প্রশিক্ষণার্থীদের জীবনে হয়ে থাকবে এক স্মরণীয় অধ্যায়।
বিশেষ করে প্রশিক্ষকদের আন্তরিকতা ও হাতে ধরে শেখানোর ধরণ প্রশিক্ষণার্থীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের এক জীবন্ত ও আদর্শ প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে পুরো প্রশিক্ষণজুড়ে। উক্ত অফিসের কর্মচারীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও সেবায় সবাই মুগ্ধ হয়েছিলেন শিক্ষকরা।
শেষ মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশে একে অপরকে বিদায় জানান সকলে। চোখের কোণে জমে ওঠে অশ্রু, হৃদয়ে গেঁথে যায় অমূল্য স্মৃতি—যা আজীবন সঙ্গী হয়ে থাকবে বলে জানান অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা।